অসুস্থ স্ত্রীকে হোটেলে নিয়ে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
অসুস্থ স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে চট্টগ্রাম নগরে এনে একটি হোটেলে ওঠেন স্বামী। পরে হোটেল কক্ষে শারীরিক নির্যাতন করে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলাম এ রায় দেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মোস্তফা মোহাম্মদ এমরান প্রথম আলোকে বলেন, আদালত নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১১ সালে পটিয়ার নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর একসময় ঈদের বাজার করতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন শাহনাজ। এর পর থেকে নেজাম উদ্দিন তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে শাহনাজকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরে নিয়ে আসেন নেজাম উদ্দিন। তবে হাসপাতালে না নিয়ে বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেটসংলগ্ন হোটেল আল-রেজার ৩১৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন তাঁরা। পরে ওই কক্ষ থেকেই শাহনাজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শাহনাজের বড় ভাই আজগর আলী বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর প্রথম আলোকে বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী আজগর আলী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বোনকে হাসপাতালে না নিয়ে হোটেল কক্ষে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল। ঘটনার সময় শাহনাজ আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তিনি রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।