মুঠোফোনে লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির পর মিলল কিশোর অটোরিকশাচালকের রক্তাক্ত লাশ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় পরিবারকে সাহায্য করার জন্য অটোরিকশা চালানো শুরু করেছিল ১৪ বছর বয়সী কিশোর মো. রাজীব। গতকাল শুক্রবার অটোরিকশা নিয়ে রাত আটটায় সে ঘর থেকে বের হয়। রাতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ করা শুরু করেন বিভিন্ন স্থান। গভীর রাতে মুক্তিপণ চেয়ে আসে ফোনও। আর আজ শনিবার দুপুরে তাঁর লাশের সন্ধান পাওয়া যায়।
রাজীবের পরিবারের সদস্যরা জানায়, রাত তিনটার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি রাজীবের মুঠোফোন থেকে তাঁর বাবার মুঠোফোনে কল করে মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ টাকা চান। এরপর আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার ক্যাম্পের হাট স্কুলের পশ্চিম পাশের একটি নির্জন বাগানে মিলেছে তার রক্তাক্ত লাশ।
পুলিশ বলছে, নিহত কিশোরের মাথায় একাধিক ক্ষতচিহ্ন ছিল। সে হত্যার শিকার হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। নিহত রাজীব দক্ষিণ গাইয়ার চরের ফজু মোল্লা স্টেশন এলাকার অটোরিকশাচালক মোস্তফা মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত আটটার দিকে রাজীব নিখোঁজ হয়। এরপর রাতে মুঠোফোনে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। ছেলের জীবন বাঁচাতে উদ্বিগ্ন পরিবার তখন দিশাহারা হয়ে পড়ে। মুক্তিপণ চাওয়ার বিষয়টি সত্যি কিনা তাও বুঝতে পারেননি তারা। আজ দুপুরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি বাগান থেকে রাজীবের মরদেহ উদ্ধার করে।
রাজীবের মামা শাহজাহান মাঝি বলেন, রাজীবকে অপহরণ করা হয়েছে বলে রাতে কল দেওয়া হয়৷ তারা তাকে ছেড়ে দিতে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। ওই টাকা না দেওয়ায় আমার ভাগনেকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে গেছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। নিহতের পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে বলে তাঁরা পুলিশকে জানিয়েছেন। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।