ক্রসিং পার হচ্ছিল বাস, মাহিন্দ্র ও ইজিবাইক, হঠাৎ ট্রেনের বিচ্ছিন্ন বগির ধাক্কা, দুজন নিহত

রাজবাড়ীতে ট্রেনের বিচ্ছিন্ন বগি ধাক্কা দেয় তিনটি যানবাহনকে। এতে বাসটি রেললাইনের পাশে আটকে পড়ে। গতকাল রাতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেট এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

রাজবাড়ীর একটি ক্রসিংয়ে তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন বগির সঙ্গে যাত্রীবাহী বাস, মাহিন্দ্র ও ইজিবাইকের চতুর্মুখী সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৮ জন।

গতকাল রোববার রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজন হলেন ইজিবাইকের যাত্রী রাজবাড়ী সদর উপজেলার ব্র্যাক পাড়ার মনোয়ার হোসেন (৫০) ও মাহিন্দ্রের যাত্রী বালিয়াকান্দি উপজেলার শামুকখোলা গ্রামের আবদুল মালেক (৪৫)। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের পাওয়ার প্ল্যান্টে তেল নামিয়ে ইঞ্জিনসহ ৩০টি বগি নিয়ে রাজবাড়ীর দিকে ফিরছিল ট্রেনটি। গতকাল রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে খানখানাপুর রেলক্রসিংয়ের আগে ট্রেনের পেছনের পাঁচটি বগির কাপলিং খুলে যায়। ইঞ্জিনসহ সামনের ২৫টি বগি ক্রসিং পার হয়ে গেলে দায়িত্বরত গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দেন।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মমিনের দাবি, গেটম্যান হয়তো খেয়াল করেননি যে ট্রেনের আরও কয়েকটি বগি পেছনে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় এগিয়ে আসছিল।

এ সময় ফরিদপুর থেকে দৌলতদিয়াগামী অপর্ণা পরিবহনের একটি বাস, একটি মাহিন্দ্র ও একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক তখনই বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা পাঁচটি বগি এসে তিনটি যানবাহনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মাহিন্দ্র ও ইজিবাইক দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বাসটির সামনের অংশ ভেঙে সড়ক থেকে ছিটকে রেললাইনের পাশে আটকে পড়ে।

বগির ধাক্কায় মাহিন্দ্র ও ইজিবাইক দুমড়ে-মুচড়ে যায়
ছবি: প্রথম আলো

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মাহিন্দ্র ও ইজিবাইকের কয়েকজন যাত্রীর হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, খানখানাপুর তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও সদর থানা-পুলিশ আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।

পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে জানিয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত পাঁচজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। পরে রাতেই দুজনের মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি বলেন, ব্যারিয়ার ওঠানোর পরপরই বাস, মাহিন্দ্র ও ইজিবাইক রেললাইন পার হতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিচ্ছিন্ন বগিগুলো এসে ধাক্কা দেয়। এতে এক মিনিটও লাগেনি, মুহূর্তের মধ্যে রেলের বগিগুলো সজোরে আঘাত করে যানবাহনগুলো টেনে নিয়ে যায়। এক মিনিট পর ব্যারিয়ারটি তুললে হয়তো এ দুর্ঘটনা ঘটত না।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মমিনের দাবি, গেটম্যান হয়তো খেয়াল করেননি যে ট্রেনের আরও কয়েকটি বগি পেছনে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় এগিয়ে আসছিল।

গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিচ্ছিন্ন ওই বগিগুলো ফরিদপুরের আমিরাবাদ স্টেশনে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজবাড়ী রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী মাহাবুব হাসান।