উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পুতুল রানী দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডাকাত আসতে পারে, পুলিশের এমন ঘোষণায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পুলিশসহ আমরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। নিরাপত্তার কথা ভেবে সাধারণ মানুষ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। হয়তো আরও ১০ থেকে ১৫ দিন এমনভাবে পাহারা দিতে হবে।’

বিভিন্ন ইউপির জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় লোকজন জানান, গত বুধবার দিনগত রাত ১২টার দিকে উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (৫ নম্বর ওয়ার্ড কুলিকুন্ডা গ্রাম) মসজিদের মাইকে ঘোষণা করেন, ‘পুলিশ বলেছে, এলাকায় ডাকাত পড়েছে, সবাই ঘর ছেড়ে বের হয়ে আসুন, ডাকাত পড়েছে এলাকায়।’ মুহূর্তে এ সংবাদ পুরো ইউনিয়নসহ আশপাশের ইউনিয়নেও ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে রাতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। অবশ্য বৃহস্পতিবার সকালে বিভিন্ন ইউনিয়নে খবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলার কোথাও ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। গত বৃহস্পতিবার রাতেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থানীয় লোকজন পাহারা দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাতে লোকজনের এলাকা পাহারা দেওয়ার কথা আছে।

উপজেলার সদর ইউপির সদস্য মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, পুলিশ মুঠোফোনে জানায়, যেকোনো সময় যেকোনো গ্রামে ডাকাতেরা ডাকাতি করতে পারে। এ জন্য গ্রামে নিরাপত্তা দিতে স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করার কথা বলেছে পুলিশ। সে অনুযায়ী তিনি গ্রামের লোকজন নিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে উপজেলার কয়েকজন তরুণ ও যুবক নিজেদের ফেসবুকে ‘নাসিরনগরে নাকি ডাকাতের বড় একটি গ্রুপ ঢুকেছে, সবাই সতর্ক থাকুন এবং কিছু ঘটলে নিজ এলাকার পুলিশ, বিট অফিসারকে ইনফর্ম করুন’ লিখে পোস্ট করেন।

সদর ইউপির সদস্য (ফুলপুর গ্রাম) মোশারফ হোসেন বলেন, ইউপির চেয়ারম্যান, থানা-পুলিশ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা ডাকাতের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। এ জন্যই লোকজন রাত জেগে এলাকা পাহারা দিচ্ছেন। ফান্দাউক ইউপির চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামান ফারুক বলেন, ‘প্রথমে পুলিশ আমাদের বিষয়টি অবগত করেছে। কিন্তু আমি এলাকায় কোনো মাইকিং করিনি। তবে লোকজনকে সতর্ক করেছিলাম।’