রুহুল কবির রিজভী বলেন, পৃথিবীর কোনো শাসক দুর্ভিক্ষের ভয় দেখান না। অথচ এই সরকারের প্রধান বাংলাদেশকে দুর্ভিক্ষের ভয় দেখাচ্ছেন। তাঁরা শতভাগ বিদ্যুৎ, পদ্মা সেতুসহ এত উন্নয়নের কথা বলেন, এখন টাকা কোথায়? প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতি এসে গেছে। খাগড়াছড়িতে একজন মা তাঁর সন্তানের মুখে খাবার দিতে না পেরে বিক্রির চেষ্টা করেছেন, এটাই দুর্নীতির নমুনা। মানুষের কাছে টাকা যদি না থাকে, তারা যদি স্বাচ্ছন্দ্যে না থাকতে পারে, তাহলে কিসের উন্নয়ন? আসলে আওয়ামী লীগের নেতারা এত দিন মানুষকে মিথ্যা উন্নয়নের কথা শুনিয়েছেন। তাঁদের মিথ্যা উন্নয়নের পর্দা তুললে দেখা যাবে, কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি। মন্ত্রী-এমপিদের পকেট হাতড়ালে কোটি কোটি টাকা পাওয়া যাবে।

দেশের জনগণ জেগে উঠেছে উল্লেখ বিএনপির এই নেতা বলেন, হেফাজতের আন্দোলন দমনের কথা বলে বিএনপিকে ভয় দেখাতে চাইছেন শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রশক্তিকে কবজা করে আর মানুষকে দমাতে পারবেন না। মানুষ আজ জেগে উঠেছে। হামলা করে, গুলি চালিয়ে আর এ দেশের জনগণকে দমানো যাবে না। অতীতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে, দিনের ভোট রাতে করে ক্ষমতায় গিয়েছেন। বাংলাদেশের জনগণ আর সেটা হতে দেবে না। বিএনপির নেতৃত্বে মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েছে। এই অবৈধ সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবে না।

সম্মেলনে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিগগিরই তারেক রহমান আন্দোলনের ডাক দেবেন। সেই ডাকে রাস্তায় নেমে পড়তে হবে। সেই আন্দোলনের মিছিল-মিটিংয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না এই অবৈধ সরকারের পতন হবে, ততক্ষণ আপনারা বাড়িতে ফিরে যাবেন না।’

নওগাঁ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম (বাবুল), বিএনপির সমবায়বিষয়ক সহসম্পাদক নাজমুল হক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুল মতিন প্রমুখ।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে বদলগাছি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক। পরে ফজলে হুদা ওরফে বাবুলকে সভাপতি ও আবদুল হাদী চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে বদলগাছি উপজেলা বিএনপির দুই সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।