এত কষ্ট করে সন্তানকে লালনপালন করে কী লাভ, সেই সন্তান একবারের জন্যও মায়ের কথা মনে করেন না। দিনের পর দিন না খেয়ে থাকলেও কখনো আসেননি খোঁজ নিতে। অন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজেও কিছু করতে পারেন না। তারপরও কখনো মায়ের জন্য ছেলের হৃদয় কাঁদেনি, দীর্ঘশ্বাসে এমন মন্তব্য তাঁর।

রেজিয়ার বাড়ি জামালপুর শহরের রশিদপুর এলাকায়। মৃত কিনো শেখের স্ত্রী তিনি। তাঁর একমাত্র সন্তান রাজ্জাক মিয়া।

গত শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, একটি লাঠির সাহায্যে রেজিয়া ঘরে ঢুকছেন। খুপরি একটি ছোট্ট ঘর। সেখানেই তিনি বসবাস করেন। ঘরের ভেতর কোনো আসবাব নেই। একটি চকি আছে। সেখানেই তিনি থাকেন। অন্ধ হওয়ার পর থেকে কোনো কাজকাম করতে পারেন না। প্রতিবেশী অনেকেই তাঁকে খাবার দিয়ে সাহায্য করেন।

রেজিয়া বেগম বলেন, ‘একমাত্র সন্তানের চার মাস বয়সের সময় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে স্বামীকে হত্যা করা হয়েছিল। তার বিচার কখনো পাইনি। স্বামীর বাড়িতেও জায়গা হয়নি। তারপরও শুধু সন্তানটি বাঁচিয়ে রাখতে জীবনে কত না যুদ্ধ করেছি। মানুষের বাড়িতে থেকেছি। মানুষের বাড়িতে কাজ করছি। যখন যা পাইছি, তা–ই করে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিয়েছি। গত ২০ বছরে ছেলে কখনো মায়ের খোঁজটুকু নিল না। অন্ধ হওয়ার পর থেকে বেকার হয়ে পড়েছি। প্রায়ই না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রতিবেশীরা যা দেয়, তা–ই দিয়ে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। এই সন্তানকে এত কষ্ট করে বড় করে কী পেলাম।’

কয়েকজন প্রতিবেশী নারী জানান, রেজিয়া অল্প বয়সে স্বামী হারিয়েছেন। এ সন্তানের জন্যই তিনি কোথাও নতুন সংসারে জড়াননি। বিয়ের আগপর্যন্ত সন্তান তাঁর মায়ের কাছেই ছিলেন। প্রায় ২০ বছর আগে ছেলে মেলান্দহে বিয়ে করেন। পরে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। এর পর থেকে মায়ের আর কোনো খোঁজখবর নেননি।

জামালপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহিনুর রহমান বলেন, ‘তাঁকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়া হয়েছে। যদি তিনি আমার কাছে আসেন, অবশ্যই তাঁকে আমার ব্যক্তিগত ও সরকারি অন্যান্য সহযোগিতার আওতায় আনা হবে। তাঁর সন্তানের সঙ্গে প্রয়োজনে আলোচনা করব। যাতে তাঁর মাকে দেখাশোনার দায়িত্ব নেন তিনি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন