সরিষাবাড়ীতে বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণ এক বছর ধরে বন্ধ
২০২২ সালের জুলাই মাস থেকে কাজ বন্ধ আছে। জোনাকি এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম কাজটি পায়।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীর রুদ্র বয়ড়া উচ্চবিদ্যালয়ের চারতলা ভবন নির্মাণকাজ এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে নতুন ভবনের জন্য বরাদ্দ পাওয়া দেড় শতাধিক বেঞ্চ জায়গার অভাবে বিদ্যালয়ের মাঠে রাখা হয়েছে। রোদবৃষ্টিতে সেসব বেঞ্চ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার দেখা যায়, ভবনের মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ। মেঝের কাজ করা হয়নি। দরজা-জানালা লাগানো হয়নি। ঠিকাদার নতুন ভবনের ফটকের চাবি না দেওয়ায় নতুন ভবনের জন্য বরাদ্দ পাওয়া বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল বিদ্যালয়ের খোলা মাঠে রাখা হয়েছে। সেগুলো ত্রিপল দিয়ে ঢাকা। কিন্তু সে ত্রিপল ছিঁড়ে গেছে। বৃষ্টি-রোদে বেঞ্চ নষ্ট হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণা আক্তার বলে, ‘শ্রেণিকক্ষ না থাকায় আমাদের গাদাগাদি হয়ে ক্লাস করতে হয়। জায়গা না থাকলে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বলেন, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নে রুদ্র বয়ড়া গ্রামে ১৯৭১ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৯৩৫ জন। রুদ্র বয়ড়া উচ্চবিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা একটি ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর কাজ শুরু করা হয়। জোনাকি এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম কাজটি পায়। ২০২২ সালের জুন মাসে কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এর মধ্যে কাজ তো শেষ হয়নি, উল্টো জুলাই মাস থেকে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেন। ঠিকাদার নির্মাণাধীন ভবনের তালা মেরে রেখেছেন।
প্রধান শিক্ষক ছাইফুর রহমান জেলা শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে ২০২২ সালের ২৭ জুলাই কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগ করার এক বছর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নির্মাণকাজ শেষ করা না হলে শিগগিরই তাঁরা মানববন্ধন করবেন।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, নতুন ভবনের জন্য জেলা শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে প্রায় এক বছর ধরে আগে ১৫৬ জোড়া নতুন বেঞ্চ, ৪০টি চেয়ার, ২৫টি টেবিল, ২টি আলমারি পাওয়া যায়। সেগুলো রাখার জায়গা না থাকায় মাঠে মধ্যে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রেখে দেওয়া হয়েছে। সেখানে রোদবৃষ্টিতে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নতুন ভবনে বেঞ্চগুলো তুলে দিলে তা-ও ভালো থাকত। ঠিকাদারকে চাবির জন্য ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেন না।
এ বিষয়ে ভবন নির্মাণের ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম বলেন, কাজ করে টাকা না পাওয়ায় ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। টাকা পেলেই কাজ শুরু করা হবে।
জেলা শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ৮ থেকে ১০ দিন আগে ঠিকাদারকে ভবনের নির্মাণকাজ আবার শুরু করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠির জবাব পাওয়া যায়নি। ঠিকাদার কাজ শেষ না করলে আবার দরপত্র আহ্বান করা হবে।