গ্রেপ্তার আবুল হায়াত। আজ শনিবার দুপুরে নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে
ছবি: প্রথম আলো

নোয়াখালীর কবিরহাটে জায়গা-জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বসতঘরে অস্ত্র রেখে এক তরুণ নিজেই গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে ধরা পড়েছেন। তাঁর নাম আবুল হায়াত (২৩)।

গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাটইয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাদলা গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়। আজ শনিবার দুপুরে ডিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে অভিযানের বিষয়টি জানানো হয়।

ডিবি জানায়, গতকাল শুক্রবার আবুল হায়াত নামের ওই তরুণ তাদের জানান, মাদলা গ্রামে আবদুর রহিম নামের এক ব্যক্তির বসতঘরে অস্ত্র ও গুলি রয়েছে। কিন্তু তথ্যদাতার কথায় সন্দেহ হয় ডিবি পুলিশের। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক তথ্যদাতা আবুল হায়াতকে ডিবির হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে নিয়েই অভিযান পরিচালনা করে তাঁর দেখানো মতে আবদুর রহিমের বসতঘর থেকে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান ও দুটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আবুল হায়াত স্বীকার করেন, তিনি নিজেই আবদুর রহিমের বসতঘরে অস্ত্র ও গুলি রেখে ডিবিকে খবর দিয়েছেন।

পরে বাটইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, আবুল হায়াতের সঙ্গে আবদুর রহিমের জায়গা-জমিসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে একাধিক মামলাও রয়েছে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আবুল হায়াত স্বীকার করেন, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তিনি নিজেই আবদুর রহিমের বসতঘরে অস্ত্র ও গুলি রেখে ডিবিকে খবর দিয়েছেন। এরপর আবুল হায়াতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় আবুল হায়াতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলা তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ দুপুরে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত শুনানি শেষে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠান।