টেবিল টেনিস খেলোয়াড় খই খই মারমার পরিবার পাচ্ছে পাকা বাড়ি
ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে রুপাজয়ী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় খই খই মারমার পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। ১৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের পরিবারের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জেলার রাজস্থলী উপজেলার চুশাক পাড়ায় খই খইয়ের গ্রামের বাড়ি পরিদর্শন করেন। ঘুরে দেখেন পাকা বাড়ি তৈরির সম্ভাব্য জায়গা।
রাজস্থলীর দুর্গম চুশাক পাড়ায় জন্ম খই খইয়ের। বাবা ক্যহ্লাখই মারমা পেশায় কৃষক। গ্রামের ছোট মেয়েটি এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে। সৌদি আরবের রিয়াদে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে জাবেদ আহমেদের সঙ্গে জুটি বেঁধে মিশ্র দ্বৈতে রুপা জিতেছেন খই খই। দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে কোনো প্রতিযোগিতায় এটাই বাংলাদেশের প্রথম টেবিল টেনিস পদক। গত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে নারী এককে সাদিয়া রহমান মৌ খেলেছিলেন কোয়ার্টার ফাইনালে।
সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন জাবেদ অনেক দিনের পরিচিত মুখ হলেও খই খইয়ের উঠে আসার গল্পটা খুব বেশি দিনের নয়। এখনো তিনি জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হননি। বাংলাদেশের মেয়েদের তালিকায় খই খই দ্বিতীয়, শীর্ষে সাদিয়া রহমান।
খই খই মারমার বাবা ক্যহ্লাখই মারমা বলেন, তাঁর মেয়ে দেশের হয়ে খেলে সম্মান এনেছেন। পাশাপাশি তিনি শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। এটা তাঁর অনেক গর্বের।
গাইন্দ্যা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এক্রয়ছিং মারমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘খই খই মারমা অত্যন্ত গরিব পরিবারের মেয়ে। সে আমাদের গ্রামের গর্ব। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার জন্য পাকা বাড়ি নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’
রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, খই খই মারমা ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। আবেদনের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানালে তিনি রাজি হন। ঘর নির্মাণের জন্য জায়গা দেখা হয়েছে। তবে কত টাকার বাজেটে ঘর নির্মাণ করা হবে, এখনো ঠিক করা হয়নি।