রাজশাহীর জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রাজশাহীর জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভা মঞ্চে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার বেলা সোয়া তিনটায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জনসভা মঞ্চে উঠলে নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত উঁচিয়ে নেতা-কর্মীদের অভিবাদন জানান।

প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে ওঠার পর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্য দেন। এরপর জনসভার সভাপতি রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল বক্তব্য দেন। এরপর বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর চারঘাটে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। বেলা আড়াইটার দিকে শেখ হাসিনা একটি হেলিকপ্টারে করে রাজশাহী পুলিশ লাইনস মাঠে পৌঁছান। সেখান থেকে জনসভাস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা মাঠের পাশের সড়কেও উপচে পড়ছে মানুষ
ছবি: শহীদুল ইসলাম

রাজশাহী মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে আজ দুপুর ১২টায় মাদ্রাসা মাঠে (বর্তমানে হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে) আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হয়। এরপর রাজশাহীর স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের অন্তত ৩২ নেতা বক্তব্য দেন। তাঁরা সবাই বাংলাদেশ ও রাজশাহী শহরকে বদলে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুনরায় নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

দুপুর ১২টা থেকে এ সভামঞ্চে বক্তব্য দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ ও মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন ও আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সংসদ সদস্য মনসুর রহমান, রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার, রাজশাহীর সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, এনামুল হক, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহ্‌মেদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১০ বছর আগে তাঁরা যে রাজশাহী দেখেছেন, সেই রাজশাহী এখন নেই। সেই রাজশাহী বদলে গেছে। এখন রাজশাহী বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর নগরীতে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিএনপি-জামায়াতের সময় রাজশাহীর রাস্তায় প্রকাশ্যে বাংলা ভাইয়ের জঙ্গিরা অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, আবার যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারে, তাহলে আরও ১০টা বাংলা ভাই সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে আগামী নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করতে হবে।

রাজশাহীতে হওয়া বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, বিএনপি সমাবেশ থেকে ঘোষণা দিয়েছিল, ঢাকায় ১০ ডিসেম্বরে সরকারের পতন হবে। সরকারের পতন হয়নি, পতন হয়েছে বিএনপির।

শেখ হাসিনা মঞ্চে আসার আগে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের তালিকায় থাকা প্রকল্পগুলোর নাম ঘোষণা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে পৌঁছে ৩১টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

আরও পড়ুন