স্বাধীনতার পর ময়মনসিংহে দাঁড়িপাল্লার প্রথম জয়
প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের বাইরে প্রথমবারের মতো এবার ময়মনসিংহের একটি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। স্বাধীনতার পর তিনবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হলেও এবারই প্রথম জেলার কোনো আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী। ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে জয়ী হয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. কামরুল হাসান। দেশের একমাত্র এ আসনে জামায়াতের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী দাঁড়ালেও দাঁড়িপাল্লার বিজয় ঠেকাতে পারেননি।
মো. কামরুল হাসান জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির। তৃণমূল পর্যায়ে ধারাবাহিক সাংগঠনিক কার্যক্রম, নিয়মিত গণসংযোগ ও স্থানীয় বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা তাঁর পক্ষে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন। এ ছাড়া ময়মনসিংহ শহরে এ্যাডভান্সড রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন তিনি।
আমার একার ভূমিকা নয়; আমরা একটি টিম হিসেবে কাজ করেছি। ফুলবাড়িয়ার প্রতিটি প্রান্তে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদের ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভোটারের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছাতে পেরেছি, সেটাই জয়ী হতে ভূমিকা রেখেছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, কামরুল হাসানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আখতার সুলতানা। কামরুল হাসান ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেও ফুটবল প্রতীক নিয়ে আখতার সুলতানা পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৩৩১ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আখতারুল আলম ৪৯ হাজার ৪৭৬ ভোট এবং জামায়াতের ‘বিদ্রোহী’ অধ্যাপক জসিম উদ্দিন ৫১ হাজার ৯৭০ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে মোট ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, স্বাধীনতার পর এ আসনে কখনো জামায়াতের প্রার্থী এমপি হতে পারেননি। অতীতে দলটি থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে অধ্যাপক জসিম উদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রতিবারই পরাজিত হয়েছেন। তিনি ১৯৯১ সালে ২১ হাজার ৮৩০, ১৯৯৬ সালে ১৭ হাজার ৩৩৮ এবং ২০০১ সালে ৪৭ হাজার ৩৭৫ ভোট পেয়েছিলেন। এবারই প্রথম ভোটে অংশ নিয়ে জয় পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী কামরুল হাসান।
কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার একার ভূমিকা নয়; আমরা একটি টিম হিসেবে কাজ করেছি। ফুলবাড়িয়ার প্রতিটি প্রান্তে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদের ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভোটারের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছাতে পেরেছি, সেটাই জয়ী হতে ভূমিকা রেখেছে।’ তিনি বলেন, তাঁরা ফুলবাড়িয়ার উন্নয়ন নিয়ে ইতিমধ্যে তাঁদের উন্নয়নভাবনা প্রকাশ করেছেন। সেখানে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বেকার ও তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং দুর্নীতিমুক্ত উপজেলা গঠন করে ফুলবাড়িয়া উপজেলাকে একটি সমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চান।