বাগেরহাটে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে হামলার অভিযোগ, আহত ২৫

বাগেরহাটে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল। শুক্রবার শহরের পুরাতন বাজার মোড়ে
ছবি: প্রথম আলো

জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাগেরহাটে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে হামলা ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সমাবেশে আসা-যাওয়ার পথে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ করে আজ শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম।

এর আগে বেলা তিনটায় শহরের পুরাতন বাজার মোড়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শুরু করে পৌর বিএনপি। জ্বালানি তেলসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভোলায় দুই নেতা হত্যার বিচার ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, সদস্যসচিব মোজাফফর রহমান। বক্তব্যের সময় দুই দিক থেকে মোটরযানসহকারে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের দুটি মিছিল আসতে থাকলে বিএনপি নেতা-কর্মীরা সমাবেশ সংক্ষেপ করে মিছিলসহকারে সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন।

নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে সালাম অভিযোগ করে বলেন, সমাবেশ থেকে ফেরার পথে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করেন। তাঁরা যেখানে যাঁকে পেয়েছেন, তাঁকে মারধর করেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাগেরহাট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি একটি বাড়ির সামনে বসে ছিলেন, তাঁকে সেখানেই মারধর করে সিঁড়ির নিচে ফেলে যান তাঁরা। পরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।

বাগেরহাটের বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে দলের এক নেতার কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদরের সোনাতলা এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

সালাম আরও বলেন, বিভিন্ন জায়গায় হামলা হয়েছে। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার জাকিরের নির্মাণাধীন বাড়ি ও কার্যালয়ে হামলা হয়েছে। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর ও কয়েকজন নেতা-কর্মীকে মারধর করা হয়। আওয়ামী লীগের সহযোগী কয়েকটি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পুলিশের সামনে লাঠিসোঁটা নিয়ে শোডাউন করেছেন। তাঁদের হামলায় বিএনপির অন্তত ২৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও আহতের খবর পাচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের হাসপাতালেও নেওয়া যাচ্ছে না। ভাঙচুর করা হয়েছে বিএনপি নেতার বাড়ি ও কয়েকটি মোটরসাইকেল।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়েছে। সমাবেশেও বাধা দিয়েছে। তবে সব থেকে দুঃখজনক ঘটনা হলো, পুলিশের সামনে সরকারদলীয় লোকজন আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। তারা লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

তবে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভূঁইয়া হেমায়েত উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নন।

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এস আজিজুল ইসলাস প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির সভাস্থলে কোনো ধরনের গোলযোগ হয়নি। তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে সভাস্থল ত্যাগ করেন। পরে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগও করেনি।