সিরাজগঞ্জে শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর আঞ্চলিক গণিত উৎসব

সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক গণিত উৎসবে গণিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজেছবি: প্রথম আলো

‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’ এই স্লোগানে ২৪তম ‘ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উত্সব ২০২৬’ শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে গণিত উৎসবের সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলনের পর বেলুন উড়িয়ে শুরু হয় উৎসব। উদ্বোধনের পর সকাল ১০টা থেকে এক ঘণ্টা গণিতের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এ বছর দেশের ১২টি শহরে আঞ্চলিক গণিত উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা ও কুষ্টিয়া। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি এই উৎসবের আয়োজন করেছে। এই আয়োজনে সহযোগিতা করছেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা।

উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) শাহাদাত হুসেইন, ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের সিরাজগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক জাহিদ হাসান, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক শামীম হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি আরিফুল গণি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহাদাত হুসেইন বলেন, ‘জীবনের সব ক্ষেত্রে গণিতের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। গণিত কোনো ভয়ের বিষয় নয়, আজকের খুদে গণিতবিদেরাই তা প্রমাণ করবে।

ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের সিরাজগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, এই উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বিশ্বে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। এখানে হার-জিত থাকলেও অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় অর্জন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বইয়ের স্টল ঘুরে পছন্দের বই দেখছেন। আজ শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে
ছবি: প্রথম আলো

সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক জাহিদ হাসান বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গণিতের গুরুত্ব রয়েছে। এই গণিত উৎসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে চেতনা সৃষ্টি করছে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক শামীম হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতের ভয় জয় করতে হলে এই ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে।

উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন জ্ঞানদায়িনী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পরেশ চন্দ্র, সিরাজগঞ্জ প্রথম আলো বন্ধুসভার উপদেষ্টা প্রদীপ সাহা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে দেখা যায়, উৎসব ঘিরে প্রথমা প্রকাশনসহ বেশ কয়েকটি প্রকাশনীর স্টল বসেছে। স্টলগুলো ঘুরে দেখছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। অনেকে বইও কিনছেন। বইয়ের স্টলের সামনে বই দেখছিলেন অভিভাবক হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, ‘স্টলগুলো ঘুরে আমি দুটি বই কিনেছি।’

বগুড়া পৌর শহরের মালতিনগর এলাকা থেকে বগুড়া জিলা স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদাৎ ইসতিয়াককে নিয়ে গণিত উৎসবে এসেছেন বাবা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এখানে না এলে জানতেই পারতাম না, গণিত দিয়ে কীভাবে বিশ্ব জয় করা যায়। এখানে অতিথিদের বক্তব্য শুনে অনেক কিছু শিখলাম, জানতে পারলাম।’

বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থী শিপন সাহা বলেন, ‘এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে আমার নিজেকে অনেক সাহসী মনে হচ্ছে।’

সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক উৎসবে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৭৮ জন শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদ উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকেরা জানান, সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ীদের ফলাফল শিগগিরই বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের ওয়েবসাইটে (matholympiad.org.bd) প্রকাশ করা হবে।