বৃষ্টির মধ্যে কালিন্দী নদী দিয়ে ১০ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধ

বৃষ্টির মধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কালিন্দী নদীর সীমান্তে বিএসএফের নৌযান আটকে কয়েকজনের বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকায় বিজিবিছবি: বিজিবির সরবরাহ করা ভিডিও থেকে

বৃষ্টির মধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কালিন্দী নদীর সীমান্ত দিয়ে গতকাল শুক্রবার অন্তত ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। খবর পেয়ে স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের ঢুকতে বাধা দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে ওই ব্যক্তিদের নিয়ে ভারতের দিকে ফিরে যায় বিএসএফ।

বিষয়টি গতকাল রাতে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের (১৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আবদুল্লাহ।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ব্যাটালিয়নের আওতাধীন এলাকা থেকে দক্ষিণে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে কালিন্দী নদীর চর এলাকায় ওই ব্যক্তিদের নিয়ে আসে বিএসএফ। ভারতের ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর সাহেবখালী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এ সময় একটি নৌকা ও একটি স্পিডবোট ব্যবহার করেন।

বিষয়টি দেখতে পেয়ে বিজিবির টহল দল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে বিজিবির সদস্যরা বৃষ্টির মধ্যে স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির সদস্যদের অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাতে পারেনি।

যেকোনো ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আবদুল্লাহ, নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের (১৭ বিজিবি) অধিনায়ক

বিজিবি জানায়, গতকাল বেলা ১১টার দিকে বিএসএফের সদস্যরা ওই ১০ থেকে ১২ জনকে নিয়ে ভারতের ভেতরে চলে যান।

বিজিবির কাছ থেকে পাওয়া ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে সীমান্তের জলসীমায় দুটি নৌযান পাশাপাশি আছে। একটিতে রেইনকোট পরা ও অস্ত্রধারী বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় আছেন। অন্য নৌযানে কয়েকজন ব্যক্তি আছেন। বিজিবির সদস্যদের ওই নৌযানের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আবদুল্লাহ বলেন, যেকোনো ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।