প্রথমবার ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাহদী, পথে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু
জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লালমনিরহাটের বাড়িতে যাচ্ছিলেন শিক্ষার্থী মাহদী হাসান। কিন্তু পথেই ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেলেন তিনি। আজ শুক্রবার সকালে নাটোরের লালপুর উপজেলার আবদুলপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মাহদী হাসান লালমনিরহাটের শিবরামপুর এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আবদুলপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ সকাল আটটার দিকে রাজশাহী থেকে চিলাহাটিগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনটি আবদুলপুর রেলস্টেশনে আসে। বগি রেখে ট্রেনটির ইঞ্জিন ঘোরানোর সময় ওই ট্রেনের যাত্রী মাহদী হাসান অসাবধানতাবশত ইঞ্জিনের নিচে পড়ে যান। সেখানে তাৎক্ষণিক তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনা টের পেয়ে ট্রেনের যাত্রীসহ অসংখ্য মানুষ সেখানে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা–পুলিশ ও লালপুরের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে এসে নিহত মাহদীর মৃতদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত মাহদীর বাবা আবদুল মালেক বলেন, মাহদী হাসান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছিল। ট্রেনে ওঠার আগে মাহদী বাড়িতে ফোন করে ফেরার কথা জানিয়েছিল। ছেলের এভাবে মৃত্যুর খবর তিনি বিশ্বাস করতেই পারছিলেন না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সে (মাহদী) বাড়ি ফিরবে। কিন্তু লাশ হয়ে। জীবনের প্রথম ভোট আর তার দেওয়া হলো না।’
আবদুলপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশনমাস্টার এস এম আবু সালেহ বলেন, নিহত মাহদী হাসান তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ছিলেন। দিক পরিবর্তনের জন্য ট্রেনটির ইঞ্জিন যখন ঘোরানো হচ্ছিল, তখন তিনি কিছু কেনার জন্য হয়তো ট্রেন থেকে নেমেছিলেন। অসাবধানতাবশত তিনি ইঞ্জিনের নিচে পড়ে মারা যান। এ ব্যাপারে আইনানুগ কার্যক্রম শেষে তাঁর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।