বক্তব্য দীর্ঘায়িত করায় কটাক্ষ, ভাঙ্গায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৮

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আটজন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা এলাকায়ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামের ইসরাফিল মোল্লার সঙ্গে প্রতিবেশী শাহাবুদ্দীন মোল্লার বিরোধ রয়েছে। তাঁরা দুজনই বিএনপির সমর্থক। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা এলাকার পাশে ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদী গ্রামে বিএনপির নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য দেন বাবলাতলা গ্রামের ইসরাফিল মোল্লা। কিন্তু বক্তব্য দীর্ঘ হওয়ায় তাঁকে কটাক্ষ করেন শাহাবুদ্দীন মোল্লার পক্ষের এক ব্যক্তি। এ নিয়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়।

ওই ঘটনার জেরে আজ দুপুরে দুই পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সংঘর্ষ চলার পর ভাঙ্গা থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জাহিদ মোল্লা (৩৭), ইয়াদ আলী মোল্লা (৩৫), জাকারিয়া মোল্লা (৩৭) ও লাভলী বেগম (৩৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ইসরাফিল মোল্লার ছেলে জাকারিয়া মোল্লা (৩৮) বলেন, ‘আমার বাবা মঙ্গলবার বিকেলে ঘরোয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদী গ্রামে বিএনপির নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন। এ সময় শাহাবুদ্দিন মোল্লার লোকজন আমার বাবাকে অপমানসূচক কথা বলেন। উঠান বৈঠক শেষে এ নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। আজ দুপুরে শাহাবুদ্দীন মোল্লার লোকজন আমাদের ওপর হামলা করেন।’

তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাহাবুদ্দীন মোল্লার পক্ষের ইয়াদ আলী মোল্লা (৩৫) বলেন, ‘ইসরাফিল মোল্লার লোকজন আমাদের চলাচলের পথ আটকে দেয়। আমরা এর বিরোধিতা করায় প্রতিপক্ষ আমাদের ওপর হামলা করেছে।’

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলিম বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।