মুন্সিগঞ্জে চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে দুই যুবককে দফায় দফায় পিটিয়ে হত্যা

পিটিয়ে হত্যাপ্রতীকী ছবি

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় চুরির অভিযোগে স্থানীয় লোকজনের পিটুনিতে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সাতঘরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজন হলেন লৌহজং উপজেলার গোয়ালিমান্দ্রা বেদেপল্লি এলাকার মো. সাগর (৩২) ও সানারুল (৩৪)। তাঁরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু–ছাগলসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের তার ও মালামাল চুরি করতেন বলে অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে সাগর ও সানারুল সাতঘরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের বিদ্যুতের তার চুরি করে পালাচ্ছিলেন। তখন স্থানীয় এক মুরগির খামারি তাঁদের দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটকান। পরে স্থানীয় লোকজন সঙ্গে নিয়ে সাগর ও সানারুলের কাছ থেকে চুরি করা বিদ্যুতের তার উদ্ধার করা হয়। এলাকায় বিভিন্ন সময় চুরি হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের মারধর শুরু করেন। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত গাছের সঙ্গে বেঁধে দফায় দফায় পিটুনি দেওয়া হয়। পুলিশ আজ সকাল ৯টার দিকে সাগর ও সানারুলকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাহমিদা লস্কর দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ওই দুজনকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক ভ্যানচালক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার আগেই তাঁরা মারা যান। তাঁদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাতঘরিয়ার এক বাসিন্দা বলেন, নিহত দুজনের চুরির কারণে লৌহজং ও শ্রীনগরের মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। রাতে যখন দুজনকে আটক করে মারধর করা হচ্ছিল, তখন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ রাতে উদ্ধার করতে যায়নি। সকালে যখন পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে, তখন অবস্থা খুব খারাপ ছিল। ভ্যানে তোলার পরই তাঁরা মারা যান।

তবে লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, রাতে নয়, সকাল ৯টার দিকে ৯৯৯–এর মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানোর পর জানতে পারেন, তাঁরা মারা গেছেন। স্থানীয়ভাবে তাঁরা খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, নিহত দুজন পেশাদার চোর ছিলেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে লৌহজং থানায় চুরির কোনো মামলা ছিল না।