জামালপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, মানুষের ভোগান্তি
আদালতের আদেশে জামালপুর জেলা ট্রাক, ট্যাংক-লরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন স্থগিত হওয়ার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে এই অবরোধ চলছে। এতে দূরপাল্লার যাত্রীদের গন্তব্যে যেতে হচ্ছে ভেঙে ভেঙে। সড়কগুলোতে যানবাহনের লম্বা লাইন সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফেরিঘাট ও শরিফপুর এলাকায়, জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাইপাস এলাকায়, জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ সড়কের মির্জা আজম চত্বর এলাকায় এবং জামালপুর-শেরপুর মহাসড়কের ব্রহ্মপুত্র সেতুর ওপরে অবরোধ করা হয়েছে। এসব স্থানে শ্রমিকেরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে এবং আড়াআড়িভাবে ট্রাক রেখে অবরোধ করেছেন। এসব পথের সব যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ক্ষুব্ধ কয়েকজন যাত্রী বলেন, শহর থেকে কোথাও যানবাহনে যাওয়া যাচ্ছে না। আবার বাইরে থেকে শহরেও ঢোকা যাচ্ছে না। এভাবে তো কোনো আন্দোলন হতে পারে না। এই আন্দোলন তুলে নিতে বা সড়ক থেকে ট্রাকগুলো সরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, যে পর্যন্ত নির্বাচনের ঘোষণা না দেওয়া হবে, সেই পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৩ সেপ্টেম্বর জেলা ট্রাক, ট্যাংক-লরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। সেই অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা। ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু বিকেলের দিকে হঠাৎ খবর আসে, এক বছর আগে শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে বহিষ্কৃত এক সদস্য আদালতে মামলা করে নির্বাচন স্থগিত করিয়েছেন। ফলে শ্রমিকেরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে যাঁরা যেখানে পেরেছেন, সেখানেই সড়ক অবরোধ করেছেন।
জেলা ট্রাক, ট্যাংক-লরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের এবারের নির্বাচনের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এই ইউনিয়নের নির্বাচনের বিভিন্ন পদে ৩৭ জন প্রার্থী হয়েছেন। ২ হাজার ৭২২ জন ভোটার রয়েছেন। এসব ভোটার বিভিন্ন জেলায় কর্মরত রয়েছেন। নির্বাচনের জন্য সবাই এলাকায় এসেছেন। নির্বাচনের সব প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। অনেক প্রার্থী আবার নির্বাচনী প্রচারণায় বহু টাকাও খরচ করেছেন। তার মধ্যে হঠাৎ করে খবর আসে, আদালত নাকি আগামীকালের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছেন। এই খবরে শ্রমিকেরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ হন এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। যে পর্যন্ত নির্বাচনের ঘোষণা না দেওয়া হবে, সেই পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করছি। শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’