আয় কমলেও সাত বছরে মজিবর রহমান সরোয়ারের অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১৬৯ শতাংশ
গত সাত বছরে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল–৫ আসনের দলীয় প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের ঘোষিত আয় ও স্থাবর সম্পদ কমলেও অস্থাবর সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া দুই নির্বাচনের হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র দেখা গেছে।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় মজিবর রহমান সরোয়ার তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছিলেন ২ কোটি ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী সেই অস্থাবর সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৪৬ হাজার ৪৫৪ টাকায়। অর্থাৎ সাত বছরের ব্যবধানে তাঁর অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ৫ কোটি ২ লাখ ৬০ হাজার ৯৫৪ টাকা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ১৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি।
আয় ও কৃষিজমির নিম্নমুখী ধারা
২০১৮ সালে জমা দেওয়া হলফনামায় মজিবর রহমান সরোয়ার উল্লেখ করেন, সে সময় তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৪৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এই আয়ের বড় অংশ এসেছিল ব্যবসা খাত থেকে, যা ২৪ লাখ টাকা। বাড়িভাড়া ও ফ্ল্যাট থেকে আয় ছিল ১২ লাখ ৩ হাজার টাকা, কৃষি খাত থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা ও ব্যাংক সুদ থেকে ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা।
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া আয়কর রিটার্নে মজিবর রহমান সরোয়ারের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৪০ লাখ ২৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, যা সাত বছর আগের তুলনায় প্রায় ৮ লাখ টাকা কম। এ সময়ে ব্যবসা থেকে আয় কমে দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ টাকায়। যদিও বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে আয় কিছুটা বেড়ে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি থেকে আয় দেখানো হয়েছে ২ লাখ টাকা, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ১২ লাখ টাকা।
কৃষিজমির ক্ষেত্রেও হ্রাসের চিত্র স্পষ্ট। ২০১৮ সালে যেখানে মজিবর রহমানের কৃষিজমির পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৬৩ একর, সেখানে ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৫ একরে। অর্থাৎ সাত বছরে তাঁর কৃষিজমি কমেছে ১ দশমিক ৩৮ একর। জমির ঘোষিত মূল্যও কমে এসেছে—১৬ লাখ ৯ হাজার ৪২৬ টাকা থেকে ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকায়।
ব্যাংক জমা ও নগদ অর্থে বড় উল্লম্ফন
আয় ও কৃষিজমির এই নিম্নমুখী প্রবণতার বিপরীতে অস্থাবর সম্পদে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। ২০১৮ সালে মজিবর রহমান সরোয়ারের ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল মাত্র ১০ লাখ টাকা। সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী, এখন পাঁচটি তফসিলি ব্যাংকে তাঁর জমা অর্থের পরিমাণ ২ কোটি ২৪ লাখ ৯ হাজার ৯৮০ টাকা। এ ছাড়া নগদ অর্থ হিসেবে আছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৯৭৪ টাকা।
এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারে ৮৫ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্রে ৯৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে। সব মিলিয়ে নগদ ও বিনিয়োগযোগ্য অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে মজিবর রহমানের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদের ঘোষিত মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ৬০২ টাকা। ফ্ল্যাটের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলেও তিনটি ফ্ল্যাটের মূল্য আগের মতোই ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। যানবাহনের ক্ষেত্রে আগে দুটি গাড়ির বদলে এবার একটি জিপ দেখানো হয়েছে, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিকের সামগ্রী ও আসবাবের মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর কাছে ৫০ তোলা সোনা থাকার কথাও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী মজিবর রহমান সরোয়ারের বিরুদ্ধে মোট ১৪টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৯টি বিচারাধীন।