দেশে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। তাই রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বেড়েছে অনেক মানুষের আগ্রহ। তাঁদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত। রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ থেকেই এ–বিষয়ক নানা ধরনের বই পড়া শুরু করেছেন তিনি। নিজের সংগ্রহে থাকা রাজনীতি ও আত্মজীবনীমূলক তিনটি বই বিনিময় করে নতুন বইয়ের খোঁজ করছিলেন তিনি।
ইয়াসিরকে পাওয়া গেল চট্টগ্রাম নগরের জামালখান এলাকায় আয়োজিত বই বিনিময় উৎসবে। আজ শুক্রবার জামালখান মোড়ে সড়কের দুপাশে সপ্তমবারের মতো চট্টগ্রামে এ আয়োজন করেছে স্টোরিটেলিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজ’। ইয়াসির ছিলেন রাজনীতি, আত্মজীবনী ও ইতিহাস স্টলের সামনে।
ইয়াসির আরাফাত বলেন, বিদ্যালয়ের শেষ দিকে এসে বইয়ের প্রতি টান অনুভব করেন তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক বইয়ের বাইরে নানা বিষয়ে পড়তে শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে এসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেখেছেন। সেই থেকে রাজনীতির বই সংগ্রহ করছেন। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, গত বছর প্রথমবারের মতো এই উৎসবে বই বিনিময় করেছেন। এবারও এসেছেন এই উৎসবে।
ইয়াসিরের মতো নানা বয়সের ও শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় দেখা গেল উৎসবে। সবার হাতে বই। সমগ্র, শিশুতোষ, রাজনীতি, আত্মজীবনী, কবিতা, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন, বিজ্ঞান, কথাসাহিত্যসহ মোট ১১টি বিভাগের ১১টি স্টলে বই বিনিময় করছেন বইপ্রেমীরা; যদিও এর আগে উৎসবে থাকা দুটি রেজিস্ট্রেশন বুথ থেকে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হচ্ছে।
জানা গেছে, এবার ৩০ হাজার বই বিনিময়ের লক্ষ্য আয়োজকদের। এই উৎসব চলবে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। আয়োজনের সহযোগিতায় রয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ও সিটি ব্যাংক। এবারের আয়োজনে বাংলাদেশের সংগীত, ঐতিহ্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, উৎসব নিয়ে চিত্র প্রদর্শনীও রাখা হয়েছে।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উৎসবের উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ঔপন্যাসিক হরিশংকর জলদাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট আল জুবায়েদ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান শামসুদ্দিন ইলিয়াস ও ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের পরিচালক সাইদ খান।
ঔপন্যাসিক হরিশংকর জলদাস বলেন, ‘আমাদের প্রকৃত বন্ধু হলো বই ও গাছ। আর এই দুই বন্ধুকেই আমরা অবহেলা করি। একটি তালিকা দেখলাম ইউরোপে, জাপানে বছরে মানুষ ৫০ থেকে ৬০টি বই পড়ে। আর বাংলাদেশে পড়ে মাত্র ৫টি। আপনারা নিজের সন্তানদের বইয়ের প্রতি অনুরাগী করে তুলুন।’
সরেজমিনে দেখা যায়, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই সেখানে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। দর্শনার্থী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অধিকাংশই ভিড় করতে দেখা গেছে শিশুতোষ, কথাসাহিত্য, কবিতা ও রাজনীতি স্টলের সামনে। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ হুমায়ুন আহমেদ ও আহমদ ছফার বই সংগ্রহ করছেন। ক্যারিয়ার–বিষয়ক বই সংগ্রহ করতে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের।
বই বিনিময় উৎসবের সমন্বয়ক ও ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের পরিচালক সাইদ খান বলেন, ‘প্রতিবারই আমাদের পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে। পাঠকের কথা বিবেচনায় এবার উৎসবের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সামনে আরও বড় পরিসরে এ আয়োজনের পরিকল্পনা আছে।’