এক মাসের ব্যবধানে মা–বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, অভাবের সংসারে পাঁচ মেয়ের কী হবে
সংসারের অভাব–অনটনের কারণে কৃষক স্বামীর ওপর অভিমান করে এক মাস আগে আত্মহত্যা করেন ফরিদা বেগম। এর এক মাস পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে তালাবদ্ধ ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে স্বামী আবুল কালাম আজাদেরও (৫০)।
ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজাদ রাধানগর গ্রামের ওয়াহাব মাতবরের ছেলে।
এই দম্পতি পাঁচ বছরের এক কন্যাশিশুসহ পাঁচ মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁদের একজনের বিয়ে হয়েছে। অভাবের সংসারে মা–বাবা ছাড়া মেয়েদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায় ঘেরা।
সুরতহাল শেষে মরদেহ থানায় নিয়ে আসেন দোহার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রসাদ কুমার চাকী। তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টায় রাধানগর গ্রামে নিজ বাড়ির কক্ষ থেকে স্বজনেরা আজাদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবুল কালাম কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। তবে সংসারে অভাব ছিল। পাঁচ মেয়ের মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট নিজ বাড়িতেই স্ত্রী ফরিদা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই কালাম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তিনি অনেকটা চুপচাপ হয়ে যান। এরপর আজ দুপুরে নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনেরা দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
নিহত আজাদের ভাই শুকুর আলী বলেন, অভাবের তাড়নায় এক মাস আগে কালামের স্ত্রী ফরিদা বেগমও একইভাবে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। একই পথে হাঁটলেন ভাই আবুল কালামও। তাঁদের ঘরে পাঁচ কন্যাসন্তানের মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছে। এ অবস্থায় মেয়েগুলোর কী উপায় হবে, আল্লাহই জানেন বলে কাঁদতে থাকেন শুকুর আলী।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, স্ত্রীর ঠিক ৩১ দিন পরে স্বামী একইভাবে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যান। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলছে।