মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের পায়েল দে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মূল ক্যাম্পাসে না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। আজকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। তবে আমাদের এ সুযোগ থাকে না। আবাসন সুবিধা নেই, শৌচাগার সংকটসহ নানা সমস্যা জর্জরিত ইনস্টিটিউট। তাই তাঁরা ক্যাম্পাসে ফিরতে চান।

শিক্ষার্থী তানজিন আফরোজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আগেই তাঁদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাঁদের দাবির তোয়াক্কা করেননি। তাই তাঁরা চোখে কালো কাপড় দিয়ে অবস্থান করেছেন। ক্যাম্পাসে না নিয়ে আসলে তাঁরা ক্লাসে ফিরবেন না।

সমাজতত্ত্ব বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী রুমেন চাকমা বলেন, চারুকলা হচ্ছে ক্যাম্পাসের প্রাণ৷ তাঁরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় আল্পনা রংতুলিতে রাঙিয়ে তুলবেন, দেয়ালে দেয়ালে থাকবে বিভিন্ন গ্রাফিতি, বানাবেন বিভিন্ন ভাস্কর্য। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে যুক্ত থাকবেন। এসব ছাড়া একটা ক্যাম্পাসে পরিপূর্ণতা আসে না। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে অযত্নে, অবহেলিত করে রাখা হয়েছে। তাঁরা চারুকলা ইনস্টিটিউটকে ক্যাম্পাসে স্থানান্তর চান।

শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ১১ দাবিতে ২ নভেম্বর ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। তার পর থেকে তাঁদের ক্লাস বর্জন অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

ইনস্টিটিউটকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ৫ নভেম্বর উপাচার্য শিরীণ আখতারতে চিঠি দেন শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার তাঁরা ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় ১০ নভেম্বর শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম নগরের বাদশা মিয়া সড়ক অবরোধ করেন। এরপর বুধবার সকাল ৯টা থেকে ইনস্টিটিউটের ফটকে তালা দিয়ে অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

চবিতে চারুকলা বিভাগের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭০ সালে। ২০১০ সালে নগরের সরকারি চারুকলা কলেজের সঙ্গে এক হয়ে গঠিত হয় চারুকলা ইনস্টিটিউট।

ইনস্টিটিউটের অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে নগরের মেহেদীবাগের বাদশা মিয়া সড়কে। বর্তমানে ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫৩ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্রী ১৭৯ জন, ছাত্র ১৭৪ জন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ইনস্টিটিউটের শ্রেণিকক্ষগুলোর অবস্থা জীর্ণশীর্ণ। ছাত্রীদের জন্য মাত্র একটি শৌচাগার আছে। আবাসনসুবিধা পান মাত্র ১৩ শিক্ষার্থী। গ্রন্থাগারে বই নেই। ডাইনিংয়ে খাবারের ব্যবস্থা নেই। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তাঁরা মূল ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে চান।