ঢাকার রেস্তোরাঁয় ঘোড়ার মাংস বিক্রি করত চক্রটি, পাঁচজনের কারাদণ্ড
জামালপুর সদর উপজেলায় ঘোড়া জবাই করে মাংস ঢাকার রেস্তোরাঁয় বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ১৩টি ঘোড়ার প্রায় ১ হাজার কেজি মাংস। পরে জব্দ করা মাংস মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। এ ঘটনায় আটক পাঁচজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকড়ি গ্রামের মো. হুমায়ুন কবির (৪০), গোপালপুর উপজেলার চরদুবাকান্দি গ্রামের আলফাজ (৪২) ও একই গ্রামের মো. শহিদ (৩৫), জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার জোরব্রিজ এলাকার পিকআপ ভ্যানের চালক মো. জুয়েল ও শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বাটকুল গ্রামের পিকআপ ভ্যানের চালকের সহকারী তাসির মিয়া (২৫)।
আজ রোববার দুপুরে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমন হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে হুমায়ুন কবির, আলফাজ ও শহিদকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং জুয়েল ও তাসিরকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনকে বেলা তিনটার দিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার তুলসীরচর এলাকায় চক্রটি ১৩টি ঘোড়া কিনে জবাই করে। পরে ঘোড়ার মাংস ১৮টি বস্তায় ভরে একটি পিকআপ ভ্যানে তোলা হয়। মাংসগুলো নিয়ে চক্রটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নরুন্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সদস্যরা উপজেলার মিরাপুর এলাকায় অভিযান চালান। সেখান থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। এ সময় মাংস বহনকারী পিকআপ ভ্যানটিও জব্দ করা হয়। পরে মাংসসহ পিকআপ ভ্যানটি নরুন্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এর আগেও তাঁরা একইভাবে আরও চারবার ঘোড়ার মাংস ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করেছেন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকার রেস্তোরাঁয় ওই মাংস প্রতি কেজি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করা হতো। পরে এসব রেস্তোরাঁয় ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হতো।
জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নাজমুল হক বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রি করে আসছিল। তাদের ধরতে পুলিশের একটি দল বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করছিল। অবশেষে ঘোড়ার মাংসসহ চক্রটির সদস্যদের আটক করা হয়।