যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মুহূর্তের ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হেলমেট পরে থাকার কারণে এখনো দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করা যায়নি।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে আলমগীর হোসেন বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় আরেকটি মোটরসাইকেলে থাকা হেলমেট পরা দুজন তাঁকে অনুসরণ করতে থাকেন। কিছুদূর যাওয়ার পর পেছনের মোটরসাইকেলটি তাঁর মোটরসাইকেল অতিক্রম করে। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছনে বসা একজন সামনের দিকে ফিরে আলমগীর হোসেনের মাথা লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় পড়ে যান। এরপর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, আশপাশের সড়ক ও দোকানের একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে গতিবিধি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে দুর্বৃত্তরা পুরো সময় হেলমেট পরা থাকায় তাঁদের মুখমণ্ডল স্পষ্ট নয়।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, ‘ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ আমরা বিশ্লেষণ করছি। হত্যাকারীরা হেলমেট পরা ছিল। এ জন্য এখনো তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছি।’
এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কে আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নগর বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন।
নিহত আলমগীর হোসেন শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কের বাসিন্দা ও ইন্তাজ চৌধুরীর ছেলে। তিনি ‘গ্রিন প্রপার্টিজ’ নামে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং যশোর মেডিকেল কলেজসংলগ্ন এলাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসা করতেন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর মাথার দুই পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবার এখনো কাউকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেনি। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।