১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার নইমুল হক বলেন, সন্ধ্যায় সৈয়দুল আমিনকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করে মামলা হয়েছে। ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করে আরসার গান কমান্ডার সৈয়দুল আমিনকে শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৈয়দুল আমিন স্বীকার করেন, দীর্ঘ ছয় মাস মিয়ানমারের গহিন অরণ্যে তথাকথিত আরসা গ্রুপের তত্ত্বাবধানে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। সম্প্রতি সৈয়দুল আমিন নাফ নদী অতিক্রম করে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢোকেন এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে সৈয়দুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাত আটটার দিকে উখিয়ার বালুখালী (ক্যাম্প-৮) আশ্রয়শিবিরে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে আরসার (আল-ইয়াকিন নামেও পরিচিত) আরেক শীর্ষ নেতা আবু-বক্কর ওরফে জমির হোসেন ওরফে হাফেজ মনিরকে (৩৭)। তিনি ওই আশ্রয়শিবিরের বি-৪৬ ব্লকের রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদের ছেলে। ৮ এপিবিএনের সদস্যরা পালংখালীর ইউনিয়নের বালুখালী আশ্রয়শিবিরের বি-৭৬ ব্লকে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় দেশে তৈরি একটি একনলা বন্দুক ও ১৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

প্রথম আলোকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেন ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. কামরান হোসেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আবু-বক্কর ওরফে জমির হোসেন ওরফে হাফেজ মনির পুলিশের সদর দপ্তরের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। ২০২১ সালের ২২ অক্টোবর দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ময়নারঘোনা আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১৮) দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও সঙ্গে লাগোয়া মসজিদে হামলা চালায় আড়াই শতাধিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন মসজিদে তাহাজ্জুতের নামাজ পড়তে আসা ছয়জন রোহিঙ্গা শিক্ষক-শিক্ষার্থী। সম্প্রতি উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে রোহিঙ্গা মাঝি আজিমুল্লাহকে। এই দুই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন গ্রেপ্তার আবু-বক্কর। তাঁকেও উখিয়া থানা-পুলিশে হস্তান্তর করে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন