বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়া দেশি-বিদেশি পর্যটক বা অন্য কোনো ধর্মাবলম্বী লোক দুবলারচরে রাস পূর্ণিমার পূজা ও পুণ্যস্নানে যেতে পারবেন না। রাস পূর্ণিমায় তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের নিরাপদে যাতায়াতের জন্য বন বিভাগ পাঁচটি নৌপথ নির্ধারণ করেছে। তীর্থযাত্রীরা ৬ থেকে ৮ নভেম্বর—মাত্র তিন দিনের জন্য অনুমতি পাবেন।

বন বিভা‌গের কর্মচা‌রী অদুদ মণ্ডল বলেন, বনে প্রবেশের সময় প্রবেশপথে তিন দিনের জন্য তীর্থযাত্রীদের প্রত্যেককে ৮৬ দশমিক ২৫ পয়সা (ভ্যাটসহ) এবং প্রতি‌টি ট্রলারের জন্যে ২ হাজার ১৮৫ টাকা (ভ্যাটসহ) ভাড়া দিতে হবে। এ ছাড়া মেলায় প্রবেশকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনু‌লি‌পি জমা দিয়ে বন বিভাগের কাছ থেকে অনুমতিপত্র নিতে হবে। যাত্রীরা নির্ধারিত একটিমাত্র পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন এবং দিনের বেলা চলাচল করতে পারবেন। বন বিভাগের চেকিং পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও নৌকা, লঞ্চ বা ট্রলার থামানোর সুযোগ থাকছে না। পরিবেশদূষণ করতে পা‌রে এমন বস্তুর ব্যবহার, মাইক বাজানো, পটকা ফোটানো, বিস্ফোরক দ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

মিহির কুমার দো বলেন, প্রতিবছরের মতো এ বছরও তীর্থযাত্রীদের সুন্দরবন থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের নিজেদের জ্বালানি সংগ্রহ করে সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। কোনো প্রকার মাংসও সঙ্গে নি‌য়ে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উৎসবের সময় কেউ যেন বন থেকে হরিণসহ অন্যান্য পশুপা‌খি শিকার করতে না পারেন, সে জন্য এবারও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন বিভাগের স্মার্ট প্যাট্রল দলও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।

এ বছ‌রের রাস উৎসব বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন ব‌লেন, করোনার সংক্রমণ এড়াতে এবারও খুবই স্বল্প পরিসরে রাস উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। ‌তি‌নি আশা করেন এ বছর সবার সহযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হ‌বে।