কিছু দুষ্টু মানুষ দেশে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ২০ কোটি মানুষের দেশ। এখানে ভালো–মন্দ সব ধরনের মানুষ আছে। কিছু কিছু দুষ্টু মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে। কিন্তু এ দেশের মানুষ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে। এ কারণে সর্বশক্তি দিয়ে বিএনপি প্রমাণ করবে, আইন সবার জন্য সমান। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটায় ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন’ প্রকল্প উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বেলা দুইটায় তিনি ফেনীতে পৌঁছান। পরে বেলা আড়াইটায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্প উদ্বোধন করেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৭ বছর ধরে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে। আমরা সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠান করতে চাই। কিন্তু কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’
জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘একটি গুপ্ত রাজনৈতিক দলের নেতারা আমাদের নসিহত করছে। তাদের বলব, আগে নিজের ঘরের দিকে নজর দিন। তাদের কিছু সদস্য নারীদের ওপর নির্যাতন করছে। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। তাই আমি কোনো মন্তব্য করব না। তবে মানুষ বলে, তাদের এক নেতা শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হননি। একটা মানুষের জীবনাবসান করে দিয়েছেন।’
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তারা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মানুষকে বিভ্রান্ত করে কিছু আসনে জিতেছে। এরপর ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল, কীভাবে তারা মা-বোনকে নির্যাতন করেছে, তা সবাই জানে। তারা এখন আবার অরাজকতা ও নারী নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফেনীতে শত শত নেতা-কর্মী ১৭ বছর ধরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখন সময় এসেছে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখার এবং এই অরাজকতাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেওয়ার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুহুরী ও কহুয়া নদী পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। দুই-আড়াই বছর আগে এখানে বড় বন্যা হয়েছিল। এই ব্রিজের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছিল সেই বন্যায়। এমন বন্যা প্রতিরোধেই আমাদের এই উদ্যোগ। এটি আমাদের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘খাল ও নদী খনন কর্মসূচি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। বিএনপি দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে বলেই এই কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, এ এলাকার প্রায় চার-সাড়ে চার লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষক ভাইয়েরা তাঁদের সেচ-সুবিধা তৈরি করতে পারবেন। তার ফলে ফসলের উৎপাদন প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন বেশি হবে। ফসলের উৎপাদন যদি বেশি হয়, কৃষকের লাভ হবে। ফসলের উৎপাদন যদি বেশি হয়, আমরা দেশে দাম কম রাখতে পারব, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে রাখতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এতে সরকারের ১৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এর ফলে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক সমগ্র বাংলাদেশে উপকৃত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে গ্রামগঞ্জে, শহরে প্রতিটি পরিবারের যে মা আছে, তাদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। আজকে ফেনীতে চালু হবে সেই কর্মসূচি, আমি মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে যাব। এই ফ্যামিলি কার্ডের উদ্দেশ্য হচ্ছে খেটে খাওয়া পরিবারের মায়েদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। একইভাবে কৃষকদেরও কৃষি কার্ড দেওয়া হবে।’
দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় রূপান্তর করবে, যাতে স্থানীয় মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ডায়ালাইসিস, শিশু ও মাতৃসেবা সহজে পেতে পারেন।
সভায় বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম মজনু, পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হালিম প্রমুখ।
বেলা সোয়া তিনটায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে যান। সেখানে কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন তিনি। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দিকনির্দেশনামূলক কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করলে কলেজটিকে জাতীয়করণেরও আশ্বাস দেন তিনি।