একই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুই মামলার দণ্ড পাওয়া আসামিরা সবাই পলাতক।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বলেন, যুবলীগ কর্মী আবদুল হান্নান ওরফে সুমন হত্যায় ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলায় দুজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যুবলীগ কর্মী মো. হানিফ হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় ছয় আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

হান্নান হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. কাউছার, খোরশেদ আলম, সোহেল রানা, মো. সোহাগ, মো. রাব্বী ও শাহাদাত। তাঁরা সদর উপজেলার দত্তপাড়া, গোপালপুর ও দক্ষিণ মাগুরী গ্রামের বাসিন্দা। মামলায় মো. বাবুল ও মানিক এলাহি খালাস পেয়েছেন। তারা দত্তপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহত সুমন উত্তর জয়পুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর রিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন হান্নান। আসামিরা তাঁর গতিরোধ করে রিকশা থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। তাঁকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুই দিন পর ৮ ডিসেম্বর নিহতের মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা করেন। ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট ৮ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে যুবলীগ কর্মী হানিফ হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন দিদার হোসেন ও ফারুক হোসেন। তাঁরা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের উত্তর মাগুরী গ্রামের বাসিন্দা। মামলায় ছয়জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় চাঁদার দাবিতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসামিরা হানিফকে গুলি করে হত্যা করেন। এ ঘটনায় ১৫ মে হানিফের বোন মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ২০১৬ সালের ২৭ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চন্দ্রগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।