পুণ্যার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক শ বছর ধরে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। কুয়াকাটার রাস উৎসব এখন সর্বজনীন লোকোৎসবে পরিণত হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্য ধর্মাবলম্বীরাও এ উৎসব দেখতে আসেন।

এর আগে রাস উৎসবকে ঘিরে গতকাল রাতে কুয়াকাটায় শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রম প্রাঙ্গণে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য মো. মহিব্বুর রহমান এই উৎসব উদ্বোধন করেন। মন্দির কমিটির সভাপতি বিপুল হালদারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর, ট্যুরিস্ট পুলিশের বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ, পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) আহমেদ মাঈনুল হাসান, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র বৈদ্য প্রমুখ।

কুয়াকাটায় শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রম কমিটির সভাপতি বিপুল হালদার বলেন, গত দুই বছর করোনার কারণে উৎসবের কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। তবে এ বছর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। তাই এবার হাজারো নারী-পুরুষ কুয়াকাটায় এসেছেন। স্থানীয় প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতায় এবারের উৎসব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

ঢাকা থেকে রাস উৎসবে যোগ দিতে আসা দুলাল চন্দ্র সাহা বলেন, শত বছরের এ উৎসবে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল দীর্ঘদিনের। করোনার কারণে আসা হয়নি। এবার সেই আশা পূর্ণ হয়েছে।
পটুয়াখালী বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দর থেকে এসেছেন সন্তোষ কুমার পাল। তিনি বলেন, বড় এ উৎসবে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন। তাই তিনিও এসেছেন পুণ্যস্নানে অংশ নিতে।

রাস উৎসব উপলক্ষে সৈকতে বসেছিল তিন দিনব্যাপী মেলা। রকমারি পণ্যের পসরা ছিল এ মেলায়। গতকাল সারা রাতই মেলায় ভিড় ছিল। নড়াইলের মহাজন বাজার এলাকার মনির হাওলাদার ও বাপ্পী হাওলাদার এ মেলায় কাসা, পিতল, তামা দিয়ে তৈরি তৈজসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন। মনির হাওলাদার বলেন, এবারের বেচাকেনা ভালো হয়েছে। উৎসবে আসতে পেরে তিনিও খুশি। কারণ, যেকোনো উৎসব বা মেলার ওপরই তাঁদের জীবিকা নির্ভর করে।

ঐতিহ্যবাহী এ রাস উৎসবকে ঘিরে কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসগুলো তিন দিন ধরে পরিপূর্ণ ছিল। এর বাইরেও অনেক মানুষ শামিয়ানা টানিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় সংঘের আশ্রমে রাত কাটিয়েছেন।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শরীফ বলেন, ‘বছরের এই দিনের জন্যই আমরা অপেক্ষায় থাকি। এমনিতেই একের পর এক দুর্যোগের কারণে কয়েক বছর ধরে পর্যটন ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ। তবে এ বছর প্রচুর লোকের সমাগম হওয়ায় এখানকার ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।’

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল খালেক বলেন, রাস উৎসব নির্বিঘ্নে ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ উৎসব ঘিরে কুয়াকাটায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।