সীতাকুণ্ডের যে সবজিবাজার থেকে এক দিনেই ঢাকায় গেল ৩৬ হাজার লাউ

চাষিদের লাউ কিনে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আজ বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শুকলাল হাট বাজারেছবি: প্রথম আলো

সড়কের পাশে সারি সারি লাউয়ের পসরা। এখান থেকেই একে একে কিনছেন পাইকারেরা। কেউ নিচ্ছেন দুই হাজার, আবার কেউ নিচ্ছেন পাঁচ হাজার। পাঁচ ঘণ্টা এভাবে কেনাকাটার পর ৩৬ হাজার লাউ গেল ঢাকায়।

আজ রোববার সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শুকলাল হাট বাজারে দেখা যায় এ দৃশ্যের। এটিই উপজেলার সবচেয়ে বড় সবজিবাজার। প্রতি রবি ও বুধবার ভোর ৫টায় এ বাজার বসে, চলে সকাল ১০টা পর্যন্ত। দূরদূরান্ত থেকে পাইকারেরা এসে কৃষকদের বিভিন্ন সবজি কিনছেন।

আজ সকালে বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শুকলাল হাট বাজারের পরাগ সিনেমা হলের সামনে লাউয়ের বড় বড় স্তূপ আকারে সাজানো রয়েছে। শ্রমিকেরা এসব লাউ আকারভেদে আলাদা করছেন। আবার কেউ কেউ পিকআপ, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ভর্তি করছেন।

বাজারে ঘুরতে ঘুরতেই কথা হয় অন্তত ১৫ কৃষক ও পাইকারের সঙ্গে। কৃষকেরা বলছেন, সরবরাহ বেশি থাকায় পাইকারেরা দাম কম দিচ্ছেন। তবে যা দাম পাচ্ছেন, তাতে তাঁদের লোকসান গুনতে হবে না। আর বিক্রেতারা বলছেন, এই সময়ে লাউয়ের দাম অনেক কম হওয়ার কথা। কিন্তু কৃষকেরা দাম কমিয়ে রাখছেন না। ফলে বেশি দামে তাঁদের লাউ কিনতে হচ্ছে। এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে। এরপরও ১১ জন ব্যবসায়ী মিলে ৩৬ হাজার ৩৪০টি লাউ কেনেন।

জানতে চাইলে বাড়বকুণ্ড এলাকার কৃষক মনা মিয়া বলেন, লাউয়ের দাম কিছুটা কমেছে। কয়েক দিন আগেও তিনি প্রতিটি লাউ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এখন তা কমে ২২ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি করছেন।

উপজেলার এ সবজি বাজার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় ৩৬ হাজার লাউ কিনলেন ব্যবসায়ীরা। আজ সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শুকলাল হাট বাজারে
ছবি: প্রথম আলো

পাইকারি ক্রেতা মোহাম্মদ হাশেম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি তিন হাজার লাউ কিনেছেন। গড়ে প্রতিটি লাউয়ের দাম পড়েছে ৩০ টাকা। লাউগুলো তিনি ট্রাকে করে ঢাকার কারওয়ান বাজারের আড়তে নিয়ে যাবেন। সেখান থেকে খুচরা বাজারে ছেড়ে দেওয়া হবে।

মো. ইদ্রিস আলী নামের পাইকারি ক্রেতা বলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই লাউগুলো কারওয়ান বাজারের আড়তে পৌঁছে দেন। আড়তদার কখনো ১০ টাকা লাভে আবার কখনো ২ টাকা লোকসানে বিক্রি করে তাঁদের কাছে টাকা পাঠান। লাউ ছাড়া অন্য সবজিও তাঁরা কেনেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, সীতাকুণ্ডে নাইচ গ্রিন, সুলতানা, মেরিনা, হাই গ্রিন, কচি ও গ্রিনম্যাজিক জাতের লাউ চাষ হয়েছে। উপজেলায় রবি মৌসুমে লাউয়ের আবাদি জমির পরিমাণ ৩৭০ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে লাউ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০ টন। এবার কোনো কৃষক লাউ চাষ করে লোকসানে পড়েননি। শুরু থেকে ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকেরা।