চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদালত চত্বরে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ, এজলাস কক্ষে ভাঙচুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদালতের এজলাস ও বিচারকের খাসকামরার দরজার কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরেছবি : সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় আদালতের এজলাস ও বিচারকের খাসকামরার দরজার কাচ ভাঙচুর করা হয়। রোববার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় ভবনের দ্বিতীয় তলায় এসব ঘটনা ঘটে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা দাবি করেছেন, আজ এজলাসে এক বিচারকের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করার প্রতিবাদে তাঁরা আদালতের সামনে রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন। ভাঙচুরের সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব বাবর আলী বলেন, ‘২০২৩ সালের একটি বিস্ফোরক মামলায় আমিসহ কয়েকজন আসামি আজ দুপুরে আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিনের আবেদন জানাই। বিচারক জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। এজলাসে বিচারক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি আগের সরকার ভালো ছিল বলে মন্তব্য করেন। তখন আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। এজলাস থেকে বের হয়ে আদালতের সামনে রাস্তায় কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। সেখানে আমি বক্তব্য দিই। বিচারককে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জজ আদালত চত্বরে বিক্ষোভের সময় বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতারা
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

ভাঙচুর সম্পর্কে বাবর আলী বলেন, ‘এ সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আদালতের সিসি ক্যামেরায় দেখা যাবে, এর সঙ্গে কে বা কারা জড়িত। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নিক। আমরা এতে জড়িত নই।’

তবে আদালতে উপস্থিত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিচারক কোনো সমালোচনা করেননি। তিনি (বিচারক) বলেছিলেন, “বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সব জায়গায় খারাপ। এখানে যারা আপনাদের লোক আছেন, তাঁদের একটু বলেন, আদালত চলাকালে যেন বিদ্যুৎ থাকে, সেই ব্যবস্থা যেন করেন।” তখন এজলাসের বাইরে থাকা স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ছেলেরা হট্টগোল শুরু করে।’

ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, প্রথমে খাস কামরার দরজার কাঁচ ভাঙ্চুর করা হয়। পরে এজলাসের দরজার কাঁচও ভাঙা হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সদর থানার পরিদর্শক (অভিযান) আবদুর রউফ বলেন, আদালতে ভাঙচুর ও বিক্ষোভ হয়েছে। তবে সেটা বড় কিছু নয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।