বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির
যখন জনগণ জবাব চাচ্ছে, তখন তারা গণভোট নিয়ে একটু একটু বলা শুরু করেছে
গণভোট প্রসঙ্গে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘তারা বলে, আমরা গণভোট মানি না। এত দিন চালাচালি করে এখন যখন জনগণ জবাব চাচ্ছে, তখন তারা গতকাল থেকে একটু একটু বলা শুরু করেছে। আসলে এরেই বলে ঠেলার নাম বাবাজি।’
শনিবার বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জের শাক্তা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ঢাকা জেলা জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা আশ্চর্য, যেদিকে আগাতে চাই, একটা দল সামনে এসে সেটা বাদ দিয়ে দেয়। আমাদের সামনে আগাতে দেয় না, তার সাক্ষী এ জাতি। জুলাই সংস্কার প্রস্তাবগুলো যাবে, গণভোট হবে। তারা বলে যে গণভোট আবার কিসের? এরপর ঠেলা খেয়ে যখন মানল, তখন বলে যে গণভোট একই দিনে হতে হবে। আমাদের দাবি ছিল, গণভোট আগে হলে গণভোটও সুন্দর হবে, সংসদ নির্বাচনও সুন্দর হবে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একই দিনে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন করা হলো।’
আওয়ামী লীগ সরকার পালাতে বাধ্য হবে এবং ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি একটি জাতীয় নির্বাচন হবে, তা এ জাতি চিন্তা করেনি বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, যারা সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদ কায়েম করে রেখেছিল, তারাই দেশের সব ব্যাংক ডাকাতি করেছিল। তারা জনগণের পকেট কেটেছে। বাংলাদেশকে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। তারা দুর্নীতিতে দেশকে ডুবিয়ে দিয়েছে।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার বরাত দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার মানুষকে আপনজনের বুক থেকে ধরে নিয়ে আয়নাঘরে ফেলে রেখেছিল। দিন নয়, মাস নয়, সপ্তাহ নয়—বছরের পর বছর তারা আয়নঘরে ফেলে রেখেছিল। আপনজনেরা ভাবতেন না, তাঁরা বেঁচে আছেন, নাকি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। কবর সাইজের একটা ঘরের মধ্যে তাঁদের রাখা হয়েছে।
আক্ষেপ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আফসোস, কেউ কেউ জুলাই শহীদদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে লাগল। জুলাইকে কোনো স্বীকৃতিই দিতে চাইল না। আবার একসময় যখন দেখল জুলাই–ই বাংলাদেশ, মানুষ মিশে গেছে জুলাইয়ের সঙ্গে, তখন বলে, আমরাই জুলাইয়ের মাস্টার মাইন্ড। তারা একবার মানে না, আরেকবার মাস্টার মাইন্ড হয়ে যায়।’
জামায়াতের আমির আরও বলেন, জুলাইকে সম্মান করা মানে, চাঁদাবাজি হতে পারে না। জুলাইকে সম্মান করার মানে, দুর্নীতি হতে পারে না, নিরীহ মানুষের জমি দখল হতে পারে না, মামলাবাণিজ্য হতে পারে না, মায়ের গায়ে হাত তোলা হতে পারে না। এগুলো জুলাই চেতনা হতে পারে না।
‘এই নির্বাচন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন’
জনসভায় ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও বক্তব্য দেন। সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।
নাহিদ বলেন, ‘আধিপত্যবাদী শক্তি বাংলাদেশে আবারও কাজ করবে, নাকি বাংলাদেশ মাথা তুলে দাঁড়াবে, এ নিয়ে এবারের নির্বাচনে লড়াই হবে। সীমান্তে ফেলানীকে হত্যা করা হয়েছে। আমার বোন ফেলানী ও আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড আর চলবে নাকি, সেটি আপনাদের ঠিক করতে হবে। এই নির্বাচন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন। এই নির্বাচন আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন। ৫ আগস্ট যেভাবে আপনারা রাজপথে নেমে এসেছিলেন, ঠিক তেমনিভাবে ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা তরুণ ও নবীন সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে ভোট দেবেন। ভোটের মাধ্যমে আমরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব।’
জনসভায় ঢাকা-১৯ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী দিলশানা পারুল বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ আছে। বাংলাদেশে ইনসাফের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের লড়াই। আমাদের প্রতিশ্রুতি হচ্ছে পরিবর্তনের জন্য। এবার পেশিশক্তি আর অবৈধ অর্থসম্পদ দিয়ে ভোট ডাকাতি করতে দেওয়া হবে না।’
জনসভায় ঢাকা-২০ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে জনগণের সামনে মুলা ঝোলানো হচ্ছে। আপনারা যদি চাঁদাবাজদের ভোট দেন, তবে সেটার খেসারতও আপনাদের দিতে হবে।’
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ বলেন, অচিরেই এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে, যেই বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজ থাকবে না, অন্যায়-অবিচার হবে না।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও জেলা আমির মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে নির্বাচনী সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম, ঢাকা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আবদুল হক, ঢাকা-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. শাহীনুর ইসলাম প্রমুখ।