টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোটের চলন্ত ইঞ্জিনের ওপর পড়ে শিশুর মৃত্যু
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিল আট বছরের মৌমাতা সরকার (নিঝুম)। হাউসবোটের পেছন থেকে সামনের দিকে যাওয়ার সময় চলন্ত ইঞ্জিনে ওপর পড়ে যায় সে। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নিঝুম সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন চন্দ্র সরকারের মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কামলাবাজ গ্রামে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ‘ভ্রমণশৈলী’ নামের হাউসবোটটি নির্মাণের পর শুক্রবার প্রথম জেলার তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত টাঙ্গুয়ার হাওরে যায়। যাত্রীরা ছিলেন বোটের মালিকপক্ষের পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়। হাওরের পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে ঘোরাঘুরি শেষে বিকেলে বোটটি উত্তর পাড়ের সীমান্তবর্তী নিলাদ্রী লেকের উদ্দেশে রওনা হয়। এ সময় নিঝুম বোটের পেছন থেকে সামনের দিকে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত চলন্ত ইঞ্জিনের ওপর পড়ে যায়। বোটে থাকা লোকজন তাৎক্ষণিক ইঞ্জিন বন্ধ করে নিঝুমকে উদ্ধার করেন। কিন্তু এর আগেই তার মৃত্যু হয়।
হাউসবোটের মালিক পঙ্কজ রায় জানান, এটি ছিল তাদের হাউসবোটের প্রথম ভ্রমণ। এটি পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে ভ্রমণ ছিল। বোটে নিঝুমের বাবা, মা ও বড় বোন ছিল। দুর্ঘটনার সময় নিঝুম তার মা ও বোনের সঙ্গে ছিল। ইঞ্জিনের ওপর পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিন বন্ধ করা হয়, তবু তাকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণকালে দুর্ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকের মেয়ে মৌমাতা সরকার নিঝুমের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুটির পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।