উনি তো এখন বড় মুফতি হয়ে গেছেন, বিলেত থেকে এসে ফতোয়া দিচ্ছেন: গোলাম পরওয়ার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দ্বীন কায়েমের নিয়মতান্ত্রিক জিহাদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া ফুলতলা) আসনে ১০–দলীয় জোট প্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অস্ত্রের যুদ্ধের পরিবর্তে ব্যালটের মাধ্যমেই রাষ্ট্রক্ষমতা ও আইন পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং এটিই বর্তমান সময়ের সংগ্রামের পথ।
আজ শুক্রবার সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের আরাফাত মহল্লায় আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।
নির্বাচনী রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আগে যুদ্ধ হতো তরবারি, তির-ধনুক ও কামান দিয়ে; এখন যুদ্ধ হচ্ছে ব্যালট দিয়ে। সহিংসতা, সন্ত্রাস ও জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল ইসলাম সমর্থন করে না এবং জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যেই রাষ্ট্র ও সরকার পরিবর্তনের পক্ষে।
জামায়াতের এই প্রার্থীর মতে, সৎ লোক নির্বাচিত হলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দমন-পীড়ন বন্ধ হবে বলেই কিছু মহল জামায়াতের বিরোধিতা করছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘কোনো একজন মুসলমান, যিনি আল্লাহ, রাসুল ও আখেরাতকে বিশ্বাস করেন, তিনি পরকালে বিশ্বাসী আরেকজনকে কাফের বলতে পারেন না, এটি জায়েজ নয়। তিনি এটা বড় অপরাধ করেছেন।’
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘আমরা ধারণা করেছিলাম, উনি লন্ডনে গেছেন, পড়াশোনা করেছেন, কিছুটা পলিটিক্যাল ম্যাচিউরিটি হয়তো আছে। কিন্তু দেখি যে উনি তো এখন বড় মুফতি হয়ে গেছেন। বিলেত থেকে এসে ফতোয়া দিচ্ছেন, কে মুসলমান আর কে কাফের। এটা বলার তাঁর কোনো অধিকার নেই। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সৌজন্যতা, শিষ্টাচারবোধের জায়গা থেকেও এই কথা বলা যায় না।’
১৯৭১ সালের প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক দল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ও পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এটি নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য হতে পারে, বিশ্লেষণ হতে পারে। তবে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করে এবং গঠনতন্ত্রে মুক্তিযুদ্ধের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের কোনো প্রমাণ নেই।
গত ৫৪ বছরে যাঁরা দেশ শাসন করেছেন, তাঁদের কেউই দুর্নীতিমুক্ত শাসনের দাবি করতে পারবে না বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ প্রতিটি সরকারের আমলেই দুর্নীতি, দলীয়করণ ও বিরোধী দমননীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ভোটারদের উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ভোট কেনার জন্য দেওয়া কালোটাকা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। টাকা দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না এবং ভোট বিক্রি করা মানে ভবিষ্যৎ বিক্রি করা।
সমাবেশের পর ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের আল আকছা, শিবপুর, বাদুড়গাছা এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে অংশ নেন জামায়াত মনোনীত এই প্রার্থী।