কারমাইকেল কলেজে নানা অনিয়মের অভিযোগ, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি শিক্ষার্থীদের
রংপুরের কারমাইকেল কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অনিয়ম, শিক্ষার মানের অবনতি, আর্থিক অনিয়ম ও দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকটের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে সচেতন শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী মুহাফিজ মোস্তফা, মাহমুদুল হাসান ও হাফিজুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার নিয়ম থাকলেও পরে অর্থের বিনিময়ে অনেক শিক্ষার্থীকে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। এমনকি তিনটির বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য কয়েকজন শিক্ষার্থীও টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণ করতে পেরেছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এ কাজে কলেজের এক কম্পিউটার অপারেটর জড়িত ছিলেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এ–সংক্রান্ত স্ক্রিনশট ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য তাঁদের কাছে রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন। তবে ওই কর্মচারী তাঁদের জানিয়েছেন, অধ্যক্ষ ও উচ্চমাধ্যমিক কমিটির আহ্বায়কের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো কাজ করেননি।
শিক্ষার্থীদের দাবি, টাকা দিতে না পারায় অন্তত ৪৩ শিক্ষার্থী এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারেননি। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি তাঁরা।
শুধু উচ্চমাধ্যমিক নয়, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থাও নানা সংকটে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, ২০২৫ সালে আন্দোলনের মুখে কলেজ প্রশাসন তাঁদের ৩৭ দফা দাবির বিষয়ে আশ্বাস দেয়। এর মধ্যে ১২টি ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ও ২৫টি কারমাইকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। এক বছর পেরিয়ে গেলেও কলেজের আওতাধীন ২৫টি দাবির বেশির ভাগই বাস্তবায়িত হয়নি। এর মধ্যে প্রধান ফটক নির্মাণ, গ্রন্থাগার সমৃদ্ধকরণ, শ্রেণিকক্ষ ও আবাসনের উন্নয়ন, খেলাধুলার সুযোগ এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গ্রন্থাগার ফি ও কলেজ ম্যাগাজিন বাবদ প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও সে অনুযায়ী সেবা মিলছে না। দরিদ্র তহবিলের অর্থও শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীরা সাত দিনের মধ্যে এইচএসসির ফরম পূরণসংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, আর্থিক অনিয়মের নিরীক্ষা, শিক্ষার মান ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং ৩৭ দফা দাবির বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হোসেন মন্ডল। তিনি বলেন, ‘দাবির বিষয়ে কোনো শিক্ষার্থী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আজ তারা সংবাদ সম্মেলন করে যেসব দাবি উপস্থাপন করেছে, এর অনেকগুলো অযৌক্তিক ও কিছু উসকানিমূলক। কোথাও দুর্নীতি হয়ে থাকলে তথ্যপ্রমাণ দিলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’