বাগেরহাটে দিনের শুরুতে ভোটদানে সময় লেগেছে ২-৪ মিনিট, ধীরে ধীরে তা কমছে
বাগেরহাটের ৫৪৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে সাতটায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও এর আগেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যায়। নারী ও পুরুষ ভোটাররা আলাদা লাইনে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, শুরুতে ভোটদানে বেশি সময় লাগলেও ধীরে ধীরে তা কমছে।
সকাল থেকে বাগেরহাট সদর উপজেলার খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৫০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ হাজার ৮৪ জন এবং পুরুষ ভোটার ৯৬৬ জন। কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, এখানে দুটি পুরুষ ও দুটি নারী কক্ষ মিলিয়ে মোট চারটি কক্ষে ভোট গ্রহণ চলছে। প্রতিটি কক্ষে দুটি করে গোপন কক্ষ রাখা হয়েছে, যাতে দ্রুত ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা যায়।
নারী ভোটারদের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই শেষে ব্যালট নিয়ে গোপন কক্ষে ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্সে ফেলতে একজন ভোটারের ২ থেকে ৪ মিনিট সময় লাগছে। অন্যদিকে পুরুষ ভোটারদের ক্ষেত্রে সময় লাগছে ১ থেকে ৩ মিনিট। সকাল পৌনে নয়টার দিকে পুরুষ ভোটারদের লাইনে মাত্র ছয়জনকে দেখা যায়। তবে একই সময়ে নারীদের দুটি লাইনে ৩০ জনের বেশি ভোটার উপস্থিত ছিলেন। এই কেন্দ্রে প্রথম ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে মোট ২১০ জন ভোট দেন। এর মধ্যে ৯১ জন নারী এবং ১১৯ জন পুরুষ ভোটার।
শুরুতে একজন ভোটারকে ভোট দিতে ৩ থেকে ৪ মিনিট সময় লাগলেও এখন গড়ে প্রতি দেড় থেকে দুই মিনিটে একজন ভোটার ভোট দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সকাল সাড়ে সাতটার পর খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন বাগেরহাট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভোটের পরিবেশ ভালো। সকাল আটটার কিছু পর সদর উপজেলার সিংড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াত–মনোনীত প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ। তিনি নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। ভোটদান শেষে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর এজেন্টদের কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বের দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থীর নেতা–কর্মীরা।
বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বাগেরহাট-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম এবং বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী খায়রুজ্জামান শিপন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে চারটি আসনে কার্যত ২১ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
বাগেরহাটের ৯টি উপজেলায় মোট ভোটার ১৩ লাখ ৬১ হাজার ১১১ জন। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবি, আনসারসহ ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মো. বাতেন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হবে।