যশোরে মুরগির খামার: আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহারে কমেছে উৎপাদন খরচ
এই প্রযুক্তি ব্যবহারে একজন শ্রমিকের খরচ বেঁচে গেছে। উৎপাদন খরচ প্রতি মাসে কমেছে ১৪–১৫ হাজার টাকা।
পলাশ কুমার মণ্ডলের মুরগির খামারে তিন হাজার ব্রয়লার মুরগি আছে। খামারে তিনি ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। এই ডিভাইসের মাধ্যমে তিনি খামারে না গিয়েও তাপমাত্রা, পানি, বৈদ্যুতিক পাখা ও বাতি মুঠোফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এতে একজন শ্রমিকের খরচ বেঁচে গেছে। উৎপাদন খরচ প্রতি মাসে কমেছে ১৪–১৫ হাজার টাকা।
পলাশ কুমার যশোরের অভয়নগরের বাগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাড়ির পাশে জমি ইজারা নিয়ে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনের লক্ষ্যে শেড নির্মাণ করেন। সেখানে তিন বছর ধরে ব্রয়লার মুরগি পালন করছেন। কিন্তু তাঁর জন্য এটা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। নিজের শ্রমঘণ্টা বেশি ব্যয় হচ্ছিল। যে কারণে তিনি তাঁর মৎস্য চাষে বেশি মনোনিবেশ করতে পারতেন না। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক একজন কর্মীকে বেতন দিয়ে খামারে নিয়োজিত রাখতে হতো। ছয় মাস আগে তিনি খামারে আইওটি ডিভাইস সংযোজন করেছেন। এতে তাঁর নিজের কর্মঘণ্টা যেমন সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি একজন কর্মীর আর প্রয়োজন হচ্ছে না।
পলাশ কুমার বলেন, ‘ছয় মাস আগেও আমার খামারে অতিরিক্ত একজন কর্মী রাখা লাগত। তাঁর বেতন দিতে হতো প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা। আইওটি ডিভাইস স্থাপনের পর থেকে বিদ্যুৎ বিল আসছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা কম। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক খরচ কমেছে।’
পলাশ কুমারের স্ত্রী বিথী মণ্ডল বেসরকারি সংস্থা নবলোক পরিষদের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির একটি সমিতির সদস্য। সংস্থাটি বিনা মূল্যে পলাশের খামারে ডিভাইসটি স্থাপন করে দিয়েছে। এ ডিভাইসের কারণে এলাকায় প্রান্তিক পোলট্রি খামারিদের কাছে পলাশ কুমার মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
সম্প্রতি বাগুটিয়া গ্রামে পলাশ কুমারের মুরগির খামারে গিয়ে দেখা যায়, খামারের ভেতরে কিছু দূর পরপর পানির পাত্র ঝোলানো। সেই পাত্রের সঙ্গে পাইপের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই পাইপের মাধ্যমে ছাদের ট্যাংক থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। খামারের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা। পাশে আইওটি ডিভাইস স্থাপন করা। সেই ডিভাইসের সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া আছে। সেই সংযোগের মাধ্যমে মুঠোফোন থেকে অ্যাপসের সাহায্যে পলাশ কুমার খামার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
বাগুটিয়া গ্রামের খামারি ফয়সাল সরদার এবং বিবাগদী গ্রামের মোহাম্মদ আনারুল মোল্লা আইওটি ডিভাইস সম্পর্কে পলাশ কুমারের কাছ থেকে ধারণা নিতে এসেছেন। ফয়সাল সরদার বলেন, আইওটি খরচ সাশ্রয়ের তেমনই একটি প্রযুক্তি। তবে এর জন্য সরকারকে বিনা মূল্যে বা কম খরচে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে।
নবলোক পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির সদস্যদের মধ্য থেকে যশোর ও খুলনা অঞ্চলের তিনজন উদ্যোক্তাকে প্রণোদনা হিসেবে আইওটি পোলট্রি প্রযুক্তি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে পলাশ একজন।
নবলোক পরিষদের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রসূন বিশ্বাস বলেন, পিকেএসএফের (পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন) আর্থিক সহায়তায় এ প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়েছে। প্রযুক্তিটির মধ্যে একটি সফটওয়্যার ডিভাইস, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ রয়েছে। এই প্রযুক্তি স্থাপনে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
স্থানীয় মুরগির খামারিদের ভাষ্য, সরকারকে প্রান্তিক খামারিদের জন্য প্রণোদনা হিসেবে এ প্রযুক্তি সরবরাহ করতে হবে।
অভয়নগরে ডিমপাড়া মুরগি ও মাংসের জন্য ব্রয়লার মুরগির ৩০০টির বেশি খামার আছে বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে একমাত্র পলাশ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এতে তিনি ভালোই ফল পাচ্ছেন।