কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি তরুণের লাশ হস্তান্তর
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি তরুণ মুজিব আলীর (২০) লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় বিএসএফ-বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
মুজিব শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা মৃত অজিব উল্লাহর ছেলে। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম মুজিবের লাশ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কুলাউড়া থানার পুলিশ ও বিজিবির সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় পতাকা বৈঠক হয়। নিহত মুজিবের চাচা ফজির আলী লাশ গ্রহণ করেন। এ সময় সেখানে কুলাউড়া থানার ওসি জহুরুল ইসলাম, বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের সুবেদার আবদুল খায়ের, বিএসএফের সহকারী কমান্ড্যান্ট দেবেশ, ত্রিপুরার ইরানি থানা-পুলিশের পরিদর্শক শ্রীকান্ত চক্রবর্তী ও শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জয়নুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মুজিবসহ ছয়–সাতজন বাংলাদেশি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ভারতের সীমানায় কাঁটাতারের বেড়ার কাছে জড়ো হন। এ সময় বিএসএফের গুলিতে মুজিব ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর সহযোগীরা পালিয়ে যান। এরপর মুজিবের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভারতের সীমান্তের নিকটস্থ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায় বিএসএফ।
দত্তগ্রাম সীমান্তের ওপারে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য পড়েছে। ভারত থেকে আসা মনু নদ দুই দেশের সীমানা ভাগ করে দিয়েছে।
বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশি তরুণ মুজিব নিহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে তাঁদের পক্ষ থেকে বিএসএফের কর্মকর্তাদের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।