ফরিদপুরের কোমরপুরে সমাবেশস্থল থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ মোড় পর্যন্ত অন্তত ছয়-সাতটি স্থানে পুলিশের চেকপোস্ট দেখা যায়। সমাবেশস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বাহিরদিয়া ব্রিজ। এর প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ধুলদি বাজার, কিছু দূর পরই ধুলদি রেলগেট, এরপর চণ্ডীপুর, শিবরামপুর ও রাজবাড়ীর শেষ সীমানা বসন্তপুরেও পুলিশের চেকপোস্ট আছে। প্রতিটি পয়েন্টে থানার পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও ডিবি পুলিশের তল্লাশিচৌকি দেখা যায়। তবে এ সময় নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি বিপদে পড়েন অনেক সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।

ধর্মঘটের কারণে পাবনা থেকে মোটরসাইকেলে করে এক সঙ্গীকে নিয়ে মাগুরায় যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী আবদুল আলিম। ফরিদপুরের ধুলদি রেলগেট এলাকায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তিনি। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাঁদের ঘুরিয়ে দেন। এ সময় কাজের প্রয়োজনীয়তা পুলিশকে বোঝাতে পারলে বিকল্প পথ দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

ধুলদি রেলগেট এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সমাবেশস্থলে যাওয়ার সময় প্রথমে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী। পরে অনেক অনুনয়–বিনয়ের পর তিনি ছাড় পান। এর কিছুক্ষণ পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাইক্রোবাস নিয়ে যাওয়ার সময় বাধার মুখে পড়েন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আসলাম মিয়া। এ সময় তাঁর সঙ্গে আরও তিনটি মাইক্রোবাস ছিল। পুলিশ আটকে দিলে অনেক অনুরোধের পর যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

লিয়াকত আলী বলেন, ‘কোনো বাধাই আমাদের আটকে রাখতে পারবে না। তারেক জিয়ার নেতৃত্বে আজ শুধু দলীয় নেতা–কর্মীই নন, সারা দেশের মানুষ জেগে উঠেছে। এই স্বৈরাচারী সরকার উৎখাত করেই আমরা ঘরে ফিরব।’

বাহিরদিয়া ব্রিজের কাছে দায়িত্বরত ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা এখানে দায়িত্ব পালন করছি। কোনো ধরনের যানবাহন প্রবেশে নিষেধ রয়েছে।’

ফরিদপুর সদর উপজেলার প্রবেশমুখে বসন্তপুর এলাকায় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ছিলেন খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে নিয়মিত কার্যসূচির অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।’

স্থানীয় মিষ্টির দোকানি লিটন শেখ বলেন, ‘এখানে আগে কখনো পুলিশ বসেনি। গতকাল শুক্রবার থেকে এখানে পুলিশ দেখছি।’