গণসমাবেশ সামনে রেখে ফরিদপুর থেকে ডাকা হয়েছে পরিবহন ধর্মঘট। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় গোয়ালন্দ থেকে অটোরিকশায় করে দুই ভাগে বিএনপির প্রায় হাজারখানেক নেতা–কর্মী ফরিদপুরে রওনা হয়েছেন। রওনা দেওয়ার আগে বিকেল চারটায় গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম গ্রুপের নেতা–কর্মীরা। এই গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নূর ইসলাম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।

সুলতান নূর ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই স্বৈরচার সরকারকে উৎখাত করা না পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল ফরিদপুরের গণসমাবেশ সফল করতে অন্তত দুই হাজার নেতা–কর্মী জমায়েত হয়েছি। আরও অনেক নেতা–কর্মী চলে গেছেন, কেউ আগামীকাল ভোরে রওনা করবেন। এখন পর্যন্ত বাধার সম্মুখীন না হলেও পরিবহন ধর্মঘটের কারণে একত্রে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা করে রওনা করছি।’

এদিকে রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আসলাম মিয়া গ্রুপের নেতা–কর্মীরা উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের মৌলভী বাজারে জমায়েত হন। এ ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন থেকেও অটোরিকশাবোঝাই করে নেতা–কর্মীরা ছুটছেন। এই গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সদ্য গঠিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি, পৌরসভার কাউন্সিলর নিজাম উদ্দিন শেখ ও সাধারণ সম্পাদক মোশারফ আহমেদ। আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাঁরা সভাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন।

নিজাম উদ্দিন শেখ বলেন, ‘গোয়ালন্দ পৌরসভাসহ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন থেকে ৬০টি করে অটোরিকশা রিজার্ভ করা হয়েছে। এসব গাড়িতে করে সবাই গণসমাবেশে হাজির হব। এ ছাড়া অনেকে সভাস্থলে পৌঁছে গেছেন। অনেকে কাল সকালে যাবেন। আমরা জানি, সরকারি মদদে ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় গণসমাবেশের মতো ফরিদপুরের গণসমাবেশের আগেও সব যানবাহন বন্ধ করে দেওয়া হবে। তারপরেও আমরা প্রস্তুত আছি। প্রয়োজন হলে হেঁটে সমাবেশে যোগ দেব।’

ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জ নিয়ে বিএনপির ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগ। ফরিদপুর শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে জনসমাবেশস্থল কোমরপুর আবদুল আজিজ ইনস্টিটিউটের মাঠ। সেখানে জনসমাবেশের জন্য সব ধরনের আয়োজন এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। গণসমাবেশ সামনে রেখে তিন দিন আগে থেকেই এখানে বিএনপি নেতা–কর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপি নেতা–কর্মীরা এক দিন আগেই সমাবেশস্থলে যোগ দেবেন।

গোয়ালন্দ পৌর যুবদল নেতা গোলাম মওলা বলেন, ‘পরিবহন ধর্মঘট থাকায় আমরা এক দিন আগেই জনসমাবেশে যোগ দিতে যাচ্ছি। যত বাধাই আসুক না কেন, আমরা জনসমাবেশে যাবই। আমাদের বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারপরও আমাদের গন্তব্যে যেতে কেউ আটকাতে পারবে না।’

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ক্যানেল ঘাট ও জমিদার ব্রিজ এলাকায় পুলিশের তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে। কোনো প্রকার নাশকতাকারী বা দুষ্কৃতকারী পার হতে না পারে, এ জন্য পুলিশ সজাগ রয়েছে।