ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঈদের ছুটিতে বিচারকের ভাড়া বাড়িতে চুরি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দা আমিনা ফারহিনের ভাড়া বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৪৭ মিনিট থেকে ৪টা ৫০ মিনিটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দা আমিনা ফারহিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌলভীপাড়ার তিতাস টুইন টাওয়ারের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। ২৪ মে ঈদের ছুটিতে নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার পর এখনো কর্মস্থলে ফেরেননি তিনি। চুরির ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের একটি দল।
ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গতকাল দিবাগত রাত ১টা ৪৭ মিনিটে তিন ব্যক্তি রেলিংয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। রাত ২টা ১৩ থেকে বিচারকের দ্বিতীয় তলার বাসার দরজার তালা ভাঙার চেষ্টা করে। পরে রাত ২টা ৪৩ মিনিটে তালা ভাঙার পর একজন বাসার ভেতরে ঢোকে। ভোররাত ৪টা ৪৬ মিনিটে একজনকে বিচারকের বাসা থেকে হাতে একটি বাক্স নিয়ে বের হতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে আজ সকাল ১০টার দিকে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ওসি প্রথম আলোকে বলেন, বিচারকের বাসায় একটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। কী কী চুরি হয়েছে, তা মামলা করার পর বলা যাবে। তাঁরা সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন।
তিতাস টুইন টাওয়ারের ব্যবস্থাপক বুলবুল আহমেদ খান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা তিনজন চোর বিচারকের বাড়ির দরজার তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে। এক থেকে দেড় ঘণ্টা অবস্থান করে চুরি করে চলে যায়। সকালে পুলিশ এসে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে থানায় নিয়ে যায়।
ভবনের নিরাপত্তাপ্রহরী রতন মিয়া বলেন, ভবনে তিনজন নিরাপত্তাপ্রহরী কাজ করেন। দুলাল মিয়া সকালে ও রওশন আলী রাতে নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করেন। সকালে বিচারকের পাশের ফ্ল্যাটে কাজ করতে যান গৃহকর্মী হাসিনা বেগম। তিনি বিচারকের ফ্ল্যাটেও কাজ করেন। তিনি দরজার ভাঙা তালা ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পাশের ফ্ল্যাটের মালিককে ডেকে বিচারক ছুটি থেকে এসেছেন কি না জানতে চান। তখন বিষয়টি জানা যায়।
জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দা আমিনা ফারহিন প্রথম আলোকে বলেন, চোরেরা একাধিকবার বাসায় ঢোকার চেষ্টা করেছে। তারা টাকা ও মামলার মূল্যবান তথ্য নেওয়ার উদ্দেশ্যে হয়তো ঢুকেছে। কী কী নিয়েছে, না দেখার আগে বলা কঠিন। রাজশাহীতে এক বিচারকের বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটেছিল। এ ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।