মা নিজের জীবন দিয়েও বাঁচাতে পারলেন না সন্তানকে

মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ার কাভার্ড ভ্যান চাপায় নিহত হন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক তারিন আকতারছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাওয়া সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন এক মা। এ ঘটনায় তাঁর ২২ মাস বয়সী কন্যাশিশুরও মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার রাত আটটার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিএমএ গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তারিন আক্তার (২৮) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ছিলেন। তাঁর শিশুকন্যার নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হক এবং সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তারিন আক্তার শুক্রবার স্বামী ও ২২ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ভাটিয়ারীতে বেড়াতে এসেছিলেন। রাতে চট্টগ্রাম নগরের বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন তাঁর স্বামী। শিশুসন্তানকে মাঝখানে বসিয়ে পেছনে বসেছিলেন তারিন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অসাবধানতাবশত শিশুটি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যেতে থাকলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে তারিনও সড়কে পড়ে যান। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান তাঁকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত শিশুটিকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবদুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, তারিন অত্যন্ত বিনয়ী ও দায়িত্বশীল একজন কর্মী ছিলেন। তাঁর এ মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি এম এ হক বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে বিস্তারিত তথ্য পরে জানা যাবে।

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বার্তা দিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম।