মায়ের আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে বাবা কারাগারে, বাড়িতে অসহায় ২ শিশু

সৃজন মন্ডল (বাঁয়ে) ও নিশান মন্ডল (ডানে)। আজ রোববার সকালে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সিংগা পশ্চিমপাড়ায়ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সিংগা পশ্চিমপাড়ায় ঢুকতেই দুই শিশুর সঙ্গে দেখা। তারা রাস্তার ধারে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে। কথা বলে জানা গেল, তাদের নাম নিশান মন্ডল (৭) ও সৃজন মন্ডল (৫)। মিলন মন্ডলের বাড়ি কোনটা, জানতে চাইলে তারা সামনের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। তবে ওই বাড়িতে কেউ নেই। প্রতিবেশীরা জানান, ওই দুই শিশুর বাবার নামই মিলন মন্ডল।

মিলন মন্ডল (৩৭) পেশায় দিনমজুর। তাঁরা তিন ভাই। বাবা বেঁচে আছেন, মা মারা গেছেন। গত শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে মিলনের স্ত্রী স্বপ্না বাড়ৈর (২৬) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। স্বপ্নার বাবা পরেশ বাড়ৈ গতকাল শনিবার সকালে কাশিয়ানী থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে জামাতা মিলনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই দিনই পুলিশ মিলনকে গ্রেপ্তার করে। আজ রোববার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মিলনকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তাঁর বাবা ও দুই ভাই পলাতক। মিলনের দুই ছেলে পাশের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে থাকছে। তাদের দেখভালের মতো তেমন কেউ নেই। তাদের নিতে আসেনি কোনো স্বজন। অসহায় এই দুই শিশুর এখন একটাই প্রশ্ন—বাবা কখন ফিরবে?

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৯ বছর আগে কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের কুমুরিয়া গ্রামের পরেশ বাড়ৈর মেয়ে স্বপ্না বাড়ৈর সঙ্গে মিলন মন্ডলের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর স্বপ্না মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তাঁকে প্রথমে খুলনায় এবং পরে এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। মিলন মন্ডল আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রায় তিন মাস ধরে স্ত্রীর চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধ চালিয়ে যেতে পারেননি। স্বপ্না আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুক্রবার রাতে দুই ছেলেকে বারান্দায় রেখে ঘরের আড়ার সঙ্গে কাপড় পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন স্বপ্না। মিলন তখন বাড়িতে ছিলেন না।

স্বপ্নার বাবা পরেশ বাড়ৈ বলেন, ‘আমার মেয়ের ওপর মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ কারণে সে আত্মহত্যা করেছে। আমার মেয়ে আমাকে জানিয়েছিল, তার স্বামীর সঙ্গে এক মেয়ের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। আমার মেয়ে সেটা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।’

প্রতিবেশী উন্নতি মণ্ডল বলেন, ‘বিয়ের দুই বছর পর থেকেই স্বপ্নার মানসিক সমস্যা আমাদের নজরে আসে। তার আচার-আচরণ ও চলাফেরায় অস্বাভাবিকতা দেখে এলাকার মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে পাবনায় চিকিৎসা করানো হয়। সেখান থেকে আসার পর কিছুদিন ভালো ছিল, পরে আবার একই সমস্যা শুরু হয়।’

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, মিলন মন্ডলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।