কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। শহরতলির ধর্মপুরে অবস্থিত কলেজটির অনার্স ও ডিগ্রি শাখায় এই সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও কার্যকর কোনো সমাধান নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এ বছর বর্ষা শুরুর আগেই শুরু হয়েছে এই দুর্ভোগ।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, গত মঙ্গল ও বুধবার সকালে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই কলেজ ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। শুধু ক্যাম্পাস নয়, পানি ঢুকে পড়েছে বেশ কয়েকটি ভবনেও। আশপাশের সব স্থাপনা কলেজের চেয়ে উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি এসে জমে ক্যাম্পাসে। এ ছাড়া দক্ষিণ পাশে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় সেদিক দিয়ে পানি প্রবেশ করে।
জলাবদ্ধতার কারণ সম্পর্কে কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার ভূঁঞা প্রথম আলোকে বলেন, ‘জলাবদ্ধতা বর্তমানে আমাদের বড় একটি সমস্যা। মূল সমস্যাটা হলো আশপাশের বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান কলেজ ক্যাম্পাস থেকে উঁচু। যার কারণে ভারী বৃষ্টি হলে সব পানি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। আশপাশের বিভিন্ন হাউজিং ও কুমিল্লা বিসিকের পানিও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে সমস্যা বাড়াচ্ছে। ক্যাম্পাসে বেশি পানি প্রবেশ করে দক্ষিণ পাশ দিয়ে। সেখানে আমাদের কোনো সীমানাপ্রাচীর নেই।’
বুধবার বেলা দুইটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো ক্যাম্পাস পানিতে তলিয়ে গেছে। ব্যবসায় শিক্ষা ভবনের নিচতলার মেঝে পুরোপুরি ডুবে রয়েছে। কলা ভবন, মিলেনিয়াম ভবনসহ আশপাশের আরও কয়েকটি ভবনেও পানি ঢুকেছে। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নিচতলায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। সেখানে কয়েকজনকে জাল দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করতেও দেখা যায়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীরা চলাচল করছেন।
শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা চলছে। মনে হচ্ছে, আমরা বন্যার মধ্যে ভেসে পরীক্ষা দিচ্ছি। এমন পরিবেশে পরীক্ষা কি ভালো হয়? পানি নোংরা, মাড়িয়ে চলাচল করলে বারবার পা চুলকায়।’ সানজিদা আক্তার বলেন, ‘আমাদের বর্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। একটু বৃষ্টি হলেই পুরো ক্যাম্পাস পানিতে তলিয়ে যায়। এই দুর্ভোগ অনার্স প্রথম বর্ষ থেকে দেখছি। এ বছর অনার্স শেষ হবে আমার, কিন্তু জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ মনে হয় শেষ হবে না।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শাহনাজ আক্তার বলেন, ‘ভিক্টোরিয়া কলেজ কুমিল্লার সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শুধু তা-ই নয়, এটি দেশের প্রাচীন কলেজগুলোর একটি। এখানে ৩০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এই কলেজে এমন সমস্যা রয়েছে। এটির স্থায়ী সমাধানে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যার কারণে এমন দুর্ভোগে প্রতিবছরই পড়ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।’
শিক্ষার্থী তানভীর আলম বলেন, ‘কলেজের সামনের সড়কটিতেও এখন হাঁটুর ওপরে পানি। এ স্থান দিয়ে অটোরিকশাও চলতে চায় না। কোনো অটোরিকশা চলাচল করলে সেটির মোটর ডুবে বিকল হয়ে যায়। আমাদের চলাচল করাও এখন কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার ভূঁঞা। তিনি বলেন, ‘আমরা ৪০ লাখ টাকার একটি বরাদ্দ পেয়েছি। এটি দিয়ে কলেজের পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্ব সীমান্তে রাস্তার মতো বাঁধ হবে। এটির কাজ শেষ হলে এই সমস্যার ৭০ ভাগ সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করছি। এ ছাড়া আমরা স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে কাজ করছি। এরই মধ্যে আরও বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ভবনগুলোর নিচতলায় পানি প্রবেশের পথ অনেকটাই বন্ধ করা হয়েছে। শুধু কমার্স ভবনে পানি বেশি হওয়ায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাকি ভবনগুলোতে পরীক্ষা নেওয়ার পরিবেশ আছে। আমরা আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।’