সূত্র জানায়, ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মালয়েশিয়ার কেলাং বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি জাহাজে ওঠে রাতুল। ১৬ জানুয়ারি কেলাং বন্দরে একটি কনটেইনারের মধ্যে শব্দ শুনতে পান নাবিকেরা। পরে কনটেইনার খুলে ওই কিশোরকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এরপর গণমাধ্যমে ওই কিশোরের ছবি, ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, জন্মের পর থেকে রাতুল কিছুটা শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। মাঝেমধ্যে সে কয়েক দিন নিরুদ্দেশ থেকে আবার বাড়ি ফিরে আসত। কীভাবে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মালয়েশিয়া গেল, তা তাঁরা জানেন না।

রাতুলের বাবা ফারুক মিয়া বলেন, ‘এলাকার লোকজন মোবাইলে আমারে রাতুলের ছবি দেখানোর পর আমি জানতে পারি। দুই মাস আট দিন আগে বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে সে চলে যায়। প্রায়ই সে এমন করে। কয়েক দিন পর আবার ফিরেও আসে। তখন ভেবেছিলাম নিজ থেকেই ফিরে আসবে। এ জন্য থানায় জিডিও করতে যাইনি। জিডি করা ও থানায় যাওয়ার ভাড়াও আমার কাছে নেই।’ তিনি ছেলেকে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

রাতুলের মা রোকেয়া বেগমের ভাষ্য, ‘জন্মগতভাবেই আমার ছেলে প্রতিবন্ধী। সে কীভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে গেল, মালয়েশিয়া গেল কিছুই জানি না আমরা। আমি ছেলেকে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলেকে ফিরে পেতে প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতা চাই।’

ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান হাওলাদার বলেন, শুক্রবার রাতে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। ওই কিশোরের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। ছেলেটির পরিবার অসহায়। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি জেনেছেন। এখন জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে করণীয় ঠিক করা হবে।