পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা জানান, আজ সকালে গজারিয়াকান্দি গ্রামের একটি চায়ের দোকানে চা পান করছিলেন দুই পক্ষের কয়েকজন সমর্থক। এ সময় নিজ নিজ পক্ষের নেতা আবদুল খালেক ও শাহ আলমকে নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের কথা–কাটাকাটি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ওই সময় তাঁরা উত্তেজিত অবস্থায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই পক্ষের সমর্থকেরা সংগঠিত হয়ে টেঁটা-বল্লম নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন টেঁটাবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে কেউ মাথায়, কেউ হাতে, কেউ পায়ে, কেউ বুকে, কেউ পেটে টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর সধ্যে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথেই মাথায় টেঁটাবিদ্ধ মফিজ উদ্দিনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের রায়পুরা ও নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা জানান, বেলা দেড়টার দিকে মফিজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ছয়জন টেঁটাবিদ্ধ ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন নয়জন। তাঁরা হলেন গজারিয়াকান্দী গ্রামের মো. সুরুজ মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (২১), আবদুল মালেক মিয়ার ছেলে মনির হোসেন (৩০), মৃত মঞ্জুর আলীর ছেলে জুলমত আলী (৬০), বারিক মিয়ার ছেলে বাচ্চু মিয়া (৪৮), আবদুল বারিকের ছেলে নাজিরুল ইসলাম (৪৫), আবদুল মন্নাফের ছেলে রমজান মিয়া (২০), হাসান মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৩০), সুরুজ আলীর ছেলে দুলু মিয়া (৫৫) এবং সরাফত আলীর ছেলে জুনাইদ আলী (১৬)। টেঁটাবিদ্ধ আহত বাকিরা রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ নরসিংদী শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দুই পক্ষের প্রধান বর্তমান ইউপি সদস্য আবদুল খালেক ও সাবেক ইউপি সদস্য শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁরা দুজনই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।

এ বিষয়ে রায়পুরা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আতাউর রহমান জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের রায়পুরা ও নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন