নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ (স্বতন্ত্র) প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমানের গাড়িতে হামলা ও গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের দিলদার মার্কেটের কাছে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এতে গাড়িতে থাকা প্রার্থী কাজী মফিজুর কিংবা তাঁর সঙ্গে থাকা কেউ আহত হননি।
গুলিতে গাড়ির কাচ ভেঙে গেছে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন কাজী মফিজুর রহমান। তিনি ঘটনার জন্য বিএনপির ধানের শীষের কর্মীদের দায়ী করেছেন এবং অবিলম্বে হামলাকারী ও তাঁদের হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় সেনবাগ বাজারে থানার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন কাজী মফিজুরের কর্মী-সমর্থকেরা।
এদিকে, পাল্টা হামলার অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকও। তিনি বলেন, সেনবাগ উপজেলা পরিষদ এলাকায় আজ সন্ধ্যায় তাঁর গাড়িতে ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করে কাজি মফিজের সমর্থকেরা। এতে তাঁর গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্রোহী প্রর্থীর গাড়িতে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজি মফিজুরের লোকজনই তাদের নিজেদের প্রার্থীর গাড়িতে হামলা চালিয়েছে।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের গাড়িতে গুলি হয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে হামলা হয়েছে। হামলায় গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করছেন। থানার মোড়ে মফিজুর ও জয়নুল আবেদিন ফারুকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ফারুকের গাড়িতেও হামলা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমান জানান, বিকেলে তিনি কাবিলপুর ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন। যার একপর্যায়ে মাগরিবের নামাজের সময় হলে তিনি কাবিলপুর ইউনিয়নের দিলদার মার্কেটের মসজিদে নামাজ আদায় করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তিনি গাড়িতে উঠে পরবর্তী কর্মসূচিস্থলে রওনা হন। এরই মধ্যে হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী তাঁকে লক্ষ্য করে গাড়িতে গুলি চালায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে তিনি এবং গাড়িতে থাকা তাঁর লোকজন অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, কাজী মফিজুর রহমানের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে একদল যুবক। এ সময় দূর থেকে কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা গেছে। তবে ওই শব্দ গুলির কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারেননি।
কাজী মফিজুর রহমান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানও ছিলেন। দলের সিদ্ধান্ত না মেনে প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘কাপ পিরিচ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।