সংবাদ সম্মেলনে মোহা. ইশরাকুল হোসেন বলেন, গত মার্চ মাসে জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটি জেলা ও মহানগরের পুরাতন আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন না করে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্রত্যক্ষ মদদে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এভাবে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের বাদ দিয়ে নিজেদের মনগড়া কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সিলেটের নেতা–কর্মীদের বিক্ষুব্ধ ও মর্মাহত করেছে।

বর্তমান জেলা কমিটির আহ্বায়ক ১৫ বছর আগে পার্টি ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন উল্লেখ করে ইশরাকুল হোসেন বলেন, তিনি (আহ্বায়ক) বিএনপির সদস্যপদও ১৫ বছরে পাননি। সেখান থেকে ফিরে আসার পর তাঁকে জাতীয় পার্টির জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সদস্যসচিব হিসেবে যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনিও বিএনপির অন্ধ সমর্থক ও ব্যবসায়ী।

ইশরাকুল হোসেন আরও বলেন, বিএনপি থেকে আসা এক নেতাকে জেলার প্রথম যুগ্ম আহ্বায়কের পদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে যুবদল করা ব্যক্তিকে মহানগর আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ দুই কমিটিতে জন্মলগ্ন থেকে জাতীয় পার্টি করা নিবেদিতপ্রাণ নেতা–কর্মীদের রাখা হয়নি।

এ দুই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা না করলে সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভাসহ অনেক নেতা–কর্মী তাঁদের প্রাণের সংগঠন থেকে সরে আসতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ইশরাকুল হোসেন বলেন, কথিত আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতারা সিলেটে বানভাসি মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে বিদেশভ্রমণ ও বিলাসী জীবনযাপনে ব্যস্ত। জেলাও মহানগর আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। কমিটি অনুমোদন পাওয়ার পর অদ্যাবধি একটি সভা বা পরিচিতি অনুষ্ঠান করতেও ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা।

তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রকৃত পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা–কর্মীদের মূল্যায়ন করার দাবি জানিয়ে ইশরাকুল হোসেন বলেন, জেলা ও মহানগর আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ও সম্মেলনের আয়োজন করতে হবে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কুনু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে দেশের বাইরে থাকায় তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। এ ছাড়া মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাঁকেও মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

জেলার সদস্যসচিব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন, এটি সত্য, জেলার আহ্বায়ক জাতীয় পার্টি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে তিনি আবার জাতীয় পার্টিতে ফিরে আসেন। তবে তিনি প্রথম থেকে জাতীয় পার্টির সঙ্গে যুক্ত। এখনো জাতীয় পার্টির একজন কর্মী। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো মিথ্যা। নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্র ভালো জানে কারা যোগ্য।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদ, জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সহসভাপতি আবদুল মালিক খান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পদক আহসান হাবিব, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বাসির আহমদ, সাবেক সহসভাপতি মজির উদ্দিন চাকলাদার, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বশির উদ্দিন, মহানগর জাতীয় পার্টির সাবেক সহসভাপতি আবদুল মজিদ, জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলকু মিয়া ও মো. দুলাল আহমদ, মহানগর জাতীয় পার্টির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মৌলভী আবুল কালাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ প্রমুখ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন