শহীদ মিনারে মাইকে নাম ঘোষণা নিয়ে শ্রমিক লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৬
শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে মাইকে নাম ঘোষণা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের দুটি পক্ষ। তাদের হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হওয়া এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন এই তিন সংগঠনের অন্তত ছয়জন নেতা-কর্মী। সংঘর্ষের কারণে শহীদ বেদিতে ফুল দিতে আসা মানুষেরা আতঙ্কে ওই এলাকা ত্যাগ করেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহীউদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ফুল দেওয়ার পর সভাপতির বক্তব্য দিয়ে শহীদ মিনার থেকে চলে আসি। সেখানে ফুল দিতে গিয়ে এ রকম ঘটনা যাঁরা ঘটিয়েছেন, তাঁরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হতে পারেন না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখেন না।’
পুলিশ, দলীয় নেতা-কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলা শ্রমিক লীগের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এক পক্ষের নেতৃত্বে আছেন বাবুল সরকার এবং অন্য পক্ষে আছেন আবদুল জলিল। আজ সকাল ৯টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে জেলা শহরের সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে অবস্থিত শহীদ মিনারে যান। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের পর একে একে জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানায়। এ সময় শ্রমিক লীগের দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা আলাদা ব্যানারে ফুল দেওয়ার জন্য শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন।
পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান ফুল দেওয়ার জন্য জেলা শ্রমিক লীগের নেতা আবদুল জলিলের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় জেলা শ্রমিক লীগের আরেক নেতা বাবুল সরকারের অনুসারীরা প্রতিবাদ করেন। তখন শ্রমিক লীগের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি নিয়ে নেতা-কর্মীরা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু করেন। জেলা যুবলীগের নেতা-কর্মীরা শ্রমিক লীগ নেতা জলিলের পক্ষে এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা বাবুল সরকারের পক্ষ হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে প্রায় আধা ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান বলেন, দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পরামর্শেই শ্রমিক লীগের নেতা জলিলের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক।
এ ঘটনায় যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের কমপক্ষে ছয়জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁরা হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন—সদর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল আহসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা সানজিদ কাজল ও সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা জসিম উদ্দিন।
সংঘর্ষের ঘটনায় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা উপস্থিত সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আতঙ্কিত হয়ে শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন।
জেলা শ্রমিক লীগের নেতা বাবুল সরকার বলেন, ‘জেলা শ্রমিক লীগের আমি বৈধ সভাপতি। কেন্দ্র থেকে আমাকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপরও ফুল দেওয়ার সময় আমার নাম ঘোষণা না করে অন্যজনের (আবদুল জলিল) নাম ঘোষণা করা হয়। তারপর আমার অনুসারী নেতা-কর্মীদের ওপরও হামলা করা হয়।’
অন্যদিকে শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল জলিল বলেন, ‘জেলা শ্রমিক লীগের আমিই সভাপতি। কেন্দ্র থেকে আমাকে চিঠিপত্র দেয়। কিন্তু বাবুল তা মেনে না নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায়।’