মামলার অন্য আসামিরা হলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি সায়েদুজ্জামান কামাল (৪৫), পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ইমান আলী (২৭), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ওমর ফারুক (২৯), আবদুস সালাম (৪৫), উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব জিসান সরকার (২৯), যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন (৩২), সাবেক আহ্বায়ক মজিবুর রহমান (৪৫), সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রুবেল মোল্লা (২২), সাইফুল হোসেন (৩০), উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান (২৫), মো. রাবি (৩২), পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান (৪৮), উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন (২৪), উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম (৩৮), বিএনপির কর্মী জাকির হোসেন (৪৮)।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ আহতের ঘটনায় ১৭ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। গতকাল যাঁদের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে, তাঁদেরই মামলায় আসামি করা হয়েছে। আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। উপজেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে কুমিল্লার গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রচারপত্র বিতরণ করেন বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। প্রচারপত্র বিতরণ শেষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি সায়েদুজ্জামান কামালের নেতৃত্বে উপজেলা সদরের মোল্লা বাড়ির মোড় থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় মোল্লা বাড়ির মসজিদের সামনে এসে জড়ো হয়। একপর্যায়ে সেখানে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এ সময় ছাত্রদল নেতা নয়ন পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান নয়ন।

পুলিশের সঙ্গে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওই সংঘর্ষে বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের ৬ সদস্য ও বিএনপির ১০-১৫ নেতা-কর্মী আহত হন। নয়ন মিয়ার লাশ এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। আজ রোববার বিকেল বা সন্ধ্যায় লাশ বাঞ্ছারামপুরের সোনারামপুর ইউনিয়নে তাঁর বাড়িতে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।